ফসল কাটার মৌসুম ঘনিয়ে আসায় কৃষিখাতে সম্ভাব্য শ্রমিক সংকট এড়াতে বিদেশি কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সরকারের এই পদক্ষেপে মৌসুমি শ্রমিকের ঘাটতি নিয়ে দেশটির কৃষকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গম, বার্লি ও ক্যানোলা উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ। শিগগিরই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ফসল কাটার ব্যস্ততা শুরু হবে। এ সময় কৃষিকাজে বিপুলসংখ্যক মৌসুমি শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
তবে অভিবাসন কমানোর সরকারি নীতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের ভিসা প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা দেয়। কৃষি খাতের নিয়োগকর্তারা আশঙ্কা করছিলেন, প্রয়োজনের সময়ে পর্যাপ্ত বিদেশি শ্রমিক না পেলে ফসল সংগ্রহে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কৃষিখাতের প্রয়োজনীয় কর্মীদের ভিসা আবেদনে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। জরুরি শ্রমিকের প্রয়োজন রয়েছে—এমন কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আবেদন দ্রুত বিবেচনার জন্য অগ্রাধিকার চাইতে পারবে।
কৃষি সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ফসল কাটার নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে শ্রমিকের উপস্থিতি সরাসরি সম্পর্কিত। তাই প্রয়োজনের সময়ে বিদেশি কর্মীদের পাওয়া গেলে কৃষকদের জন্য মৌসুমি চাপ সামলানো সহজ হবে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিখাতসহ নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের যোগ্য কর্মীদের ভিসা আবেদনে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে অগ্রাধিকার পেলেই ভিসা নিশ্চিত হবে না; আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ভিসার সব শর্ত পূরণ করতে হবে।
সরকারের এই উদ্যোগকে কৃষি উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি মৌসুমি শ্রমিক সংকট মোকাবিলার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স