দীর্ঘ যুদ্ধ অভিযান ও মানসিক চাপে নৌসেনাদের মধ্যে গুরুতর সংকট
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের বহরে অন্তত আটজন নৌসেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কোনো সেনার মৃত্যু হয়নি।
সিএনএনের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, সাবেক মার্কিন ভারপ্রাপ্ত নৌ সচিব হাং কাও সিনেটে পাঠানো এক চিঠিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রণতরীটির বহরে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মার্কিন সেনা ছিলেন। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করে উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কারণে অনেক সেনার ওপর তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হয়।
শুধু ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনেই নয়, এর সঙ্গে থাকা এসকর্ট যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান স্কোয়াড্রনের সদস্যদের মধ্যেও আত্মহত্যার চেষ্টা ঘটেছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কয়েকজন সেনা সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। সহকর্মীদের দ্রুত হস্তক্ষেপে তাদের উদ্ধার করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, সাধারণত বছরে এক বা দুজন সেনার মধ্যে এমন ঘটনা দেখা গেলেও একই সামরিক মিশনে আটজনের আত্মহত্যার চেষ্টা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
দীর্ঘ সময় বিশ্রামের সুযোগ না পাওয়া, ক্রমাগত যুদ্ধ সতর্কতা এবং স্থলভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন সেনাদের মানসিক অবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এর পাশাপাশি রণতরীতে পানীয় জল ও গরম পানির মতো মৌলিক সুবিধা নিয়েও সমস্যার কথা উঠে এসেছে। এসব পরিস্থিতি সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট আরও বাড়িয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর মার্কিন সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড সেনাসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি সেনা ও তাদের পরিবারের ত্যাগের তুলনায় সামরিক সদস্যদের চিকিৎসা ও কল্যাণে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও দেশের হয়ে দায়িত্ব পালন করা সেনাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না হওয়া গুরুতর বিষয়।
ঘটনাটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ মিশনে মার্কিন সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য, কর্মপরিবেশ এবং সহায়তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।