যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাজারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার খবরের প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। তবে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় নতুন হামলার ঘটনায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও রয়ে গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় ০০টা ৩২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৪ সেন্ট বা দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৮১ সেন্ট বা দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে আসে।
এর আগে বৃহস্পতিবার তেলের বাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা যায়। ওই দিন ব্রেন্টের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছিল। ফলে শুক্রবারের দরপতনকে বাজারে সাময়িক স্বস্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্কে দুই দেশের আলোচনায় ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে ধাপে ধাপে এগোনোর সম্ভাবনা আলোচিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হুথিদের হামলার কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির আলোচনা তেলের দাম কমানোর চাপ তৈরি করলেও সরবরাহ নিয়ে নতুন কোনো সংকট তৈরি হলে বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন তেলের বাজারে মূল নজর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ পরিস্থিতির দিকে। যুদ্ধবিরতির বাস্তব অগ্রগতি হলে তেলের দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে, আর আলোচনা ব্যর্থ হলে উল্টো সরবরাহ-ঝুঁকি বাড়তে পারে।