যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালালে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের বিস্তৃতি ভারত মহাসাগর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এক ভিডিও বার্তায় সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস প্রধান সাফাভি বলেন, সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ইরান বা দেশটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালালে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি একপর্যায়ে ভারত মহাসাগর ছাড়িয়ে আরও দূরবর্তী অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ভারত মহাসাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এই অঞ্চলে সংঘাতের বিস্তার ঘটলে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ, পণ্য পরিবহন ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে পরিবহন ব্যয় ও আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের হুথিদের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। তেহরান অবশ্য ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে।
এদিকে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এই প্রণালিতে যেকোনো বড় ধরনের অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের হুঁশিয়ারিতে ভারত মহাসাগরের প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ এই অঞ্চলের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ইরান থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার।
এর মধ্যেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা দেশটির সম্পদ মুক্ত করার মতো কয়েকটি শর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।