ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে দেশটির সেনাদের দেশ রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গের প্রস্তুতি রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি ইয়েমেন সীমান্তে মোতায়েন সৌদি সেনাদের উদ্দেশে এ বার্তা দেন।
গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং এর এক ইঞ্চি জায়গার ওপরও কেউ হস্তক্ষেপ করতে চাইলে তা প্রতিহত করা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে প্রয়োজন হলে জীবন ও আত্মা উৎসর্গ করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সৌদি সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া ওই বার্তায় কোরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং আল্লাহ ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি আনুগত্য ও আত্মত্যাগসংক্রান্ত হাদিসের উল্লেখ করা হয়েছে।
তীব্র হচ্ছে সৌদি-হুতি সংঘাত
গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা বেড়েছে। রিয়াদের দাবি, ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে সৌদি আরবও হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা ও উপকূলীয় শহর ধুবাবসহ বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশের কয়েকটি দ্বীপেও তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এই পথ দিয়ে জাহাজ সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপীয় বাজারে যাতায়াত করে। ফলে ওই এলাকায় অস্থিতিশীলতা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেনাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ
গ্র্যান্ড মুফতির বিবৃতিতে হুতিদের পরাজয়ের জন্য প্রার্থনার কথাও বলা হয়েছে। সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত সেনাদের সবসময় প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি শাসক ও সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশ মেনে সর্বোচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি মসজিদে হুতিদের হামলার দাবি করে ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে, হুতিরা মক্কা লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
গ্র্যান্ড মুফতি সৌদি সেনাদের পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনের কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের পথ অনুসরণ করছেন।