ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্ট পোর্ট হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর, কমবে কাগজপত্র ও যানজট

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশ

কাগজের ফাইল ও ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার নির্ভরতা কমিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো চট্টগ্রাম বন্দরকে পেপারলেস ও স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে চট্টগ্রাম

2026-09-23T19:40:31+00:00
2026-09-23T19:40:31+00:00
  শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্ট পোর্ট হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর, কমবে কাগজপত্র ও যানজট
চট্টগ্রাম ব্যুরো
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
কাগজের ফাইল ও ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার নির্ভরতা কমিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো চট্টগ্রাম বন্দরকে পেপারলেস ও স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিল পরিশোধ থেকে কনটেইনার ডেলিভারি, ট্রাকের প্রবেশ থেকে জাহাজের ছাড়পত্র—বন্দরের প্রায় প্রতিটি ধাপই আনা হচ্ছে অনলাইন ব্যবস্থার আওতায়।

বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবা সহজ করা, পণ্য খালাসে গতি বাড়ানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত, রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত এবং বন্দরের ভেতর-বাইরের যানজট কমাতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এসব তথ্য জানান।

চবক সচিব জানান, বর্তমানে বন্দরের শতভাগ ভেসেল বিল অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। কনটেইনার ও কনসাইনি বিলও শতভাগ টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে তৈরি ও আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ইতোমধ্যে ই-গেট পাস ইস্যু, গেট ইন ও গেট আউট প্রক্রিয়া অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি টিওএসের মাধ্যমে টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট, অনলাইন কার্ট টিকিট, ই-গেট চালান এবং শতভাগ ভেসেল ই-এনওসি নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলছে।

বন্দরের নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপন এবং এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে যেকোনো সময় অনলাইনে পেমেন্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এর ফলে ছুটির দিন কিংবা অফিস সময়ের বাইরেও বন্দরের মাশুল পরিশোধ করা যাবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মাশুল পরিশোধ না হলে অটো পুল পেমেন্ট সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

শুধু অর্থ পরিশোধ নয়, পণ্য খালাসের পরবর্তী ধাপও স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিওএসে অনলাইনে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট অনুমোদন, এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআইয়ের মাধ্যমে অকশন ডেলিভারি এবং ব্রেকবাল্ক অপারেশন অনলাইনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বন্দর এলাকায় যানজট কমাতে ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। টিওএসের নতুন সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট ও ইআইআর ই-গেট পাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এ ছাড়া বে টার্মিনালে স্লটভিত্তিক ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্টভিত্তিক ট্রাক পার্কিং টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে রিয়েল-টাইমে নথি যাচাই, বিল তৈরি ও নিশ্চিতকরণ এবং আইসিডি ইন্টিগ্রেশনের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বন্দরের বিভিন্ন সেবায় অটোমেশন ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর ফলে কার্যক্রমে দক্ষতা ও গতি বাড়ছে। এনসিটির কার্যক্রম হস্তান্তরের পর দক্ষতা ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ‘সিপিএ স্কাই’ ও প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসের মতো ডিজিটাল ব্যবস্থাও বন্দরের কার্যক্রমে গতি আনতে ভূমিকা রাখছে।

এর আগে জুলাইয়ে বন্দরের ডেলিভারি ডকুমেন্টেশনের প্রতিটি ধাপ টিওএসের মাধ্যমে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে ডেলিভারি অর্ডারের আবেদন থেকে চূড়ান্ত গেট আউট পর্যন্ত ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া কমানোর কথা জানানো হয়েছিল।

একই সঙ্গে টিওএসকে কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সঙ্গে রিয়েল-টাইমে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাস্টমস কোনো কনটেইনার আটকে দিলে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াও স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত করার ব্যবস্থা থাকবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় একই কাজের জন্য ব্যবহারকারীদের একাধিক দপ্তর বা ডেস্কে যেতে হবে না। অনলাইনে কোন নথি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটিও জানা যাবে। এতে সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় বন্দর সেবাকে আরও ডিজিটাল করা, যানজট কমানো, রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবহারকারীদের হয়রানি কমাতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইতোমধ্যে ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো’ চালুর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর পেপারলেস ও স্মার্ট পোর্ট ব্যবস্থার দিকে এগিয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মে এক লগইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ এবং জাহাজের গতিবিধি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশনের ফলে সময় ও খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বকেয়া মাশুল দ্রুত আদায়সহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে এসব কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করে পুরো চট্টগ্রাম বন্দরকে পেপারলেস ও স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরই এখন কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: