ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেছেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে ড্রেন-নর্দমা পরিষ্কার ও মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও পেশাদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর মিস্ত্রিপাড়া খালপাড় রোডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিস্ত্রিপাড়া খালপাড় বাড়িওয়ালা কল্যাণ সমিতি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নগরের সব ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মশক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান জনবলের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে আরও পাঁচজন করে জনবল বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত জনবল ফগারের মাধ্যমে উড়ন্ত মশা নিধনের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রজননস্থলে স্প্রে করে লার্ভা ধ্বংসে কাজ করছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এ ধরনের কর্মসূচি জনসচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ডেঙ্গুর দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন কেসিসি প্রশাসক।
এ সময় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, কনজারভেন্সি অফিসার মো. অহিদুজ্জামান খান, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কান্তি ঘোষ, সাবেক কাউন্সিলর মাজেদা খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে নগরীর ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে স্বল্প আয়ের পরিবারের মধ্যে মশারি বিতরণ করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১৯০টি এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬০টি পরিবারের মধ্যে মশারি বিতরণ করা হয়।
এ সময় কেসিসি প্রশাসক ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয়দের নিজ নিজ এলাকায় সহযোগিতা ও নজরদারির আহ্বান জানান।
‘বর্জ্য এখন সংকট নয়, বাণিজ্যিক খাত’
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর একটি হোটেলে ‘খুলনা সিটি করপোরেশনে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার পেশাদারিত্ব জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কেসিসি প্রশাসক।
সেখানে তিনি বলেন, ‘বর্জ্য এখন কোনো সংকট নয়, এটি বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হয়েছে।’ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শলুয়ায় নির্মিত বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট চালু হলে খুলনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
তবে রিসাইক্লিং প্ল্যান্টের পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়া হলে সেটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে কি না, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে কর্মকর্তা পর্যায়ে আরও সভা আয়োজনের নির্দেশ দেন।
কেসিসি প্রশাসক আরও বলেন, নগরের কয়েকটি ওয়ার্ডকে নিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পাইলট কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে ৩১টি ওয়ার্ডে কী ধরনের ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, সে বিষয়ে বাস্তব ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। একমুখীভাবে কাজ না করে সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সফলতা আনা সম্ভব।
রাজকীয় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় ‘বাংলাদেশ নগরভিত্তিক পানিচক্রের টেকসই রূপান্তর’ প্রকল্পের আওতায় কেসিসি ও এসএনভি যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় প্রাথমিক উৎস থেকে বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাকে পেশাদার করার লক্ষ্যে সেবাদানকারীদের শর্তযুক্ত অনুমতিপত্র বা লাইসেন্স প্রদান, কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন, নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ আদায় এবং প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত সব ভ্যানগাড়িকে কেসিসির নিবন্ধনের আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক সেবার বাইরে থাকা এলাকা, সড়ক ও পরিবার চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে পুরো মহানগরকে শতভাগ প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কনজারভেন্সি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।