গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকের নামে জন্মসনদ ইস্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রায়হান ফিরোজ ও হিসাব সহকারী মোছা. মাহমুদা বেগম।
মনোহরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুল বারী মণ্ডল গত ২০ জুলাই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগটি দেন। পরে বিষয়টি দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়েও জানানো হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে প্রায় শতাধিক জন্মসনদের আবেদন গ্রহণ ও সনদ ইস্যু করেছেন। এর বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগের সঙ্গে আটটি জন্মসনদের নমুনা সংযুক্ত করা হয়েছে। এসব সনদে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় ঠিকানা দেখানো হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীর। একই নামে একাধিক জন্মসনদ ইস্যুর তথ্যও অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আব্দুল বারী মণ্ডল বলেন, এভাবে বিদেশি নাগরিকদের নামে জন্মসনদ ইস্যু করা হলে নাগরিক নিবন্ধন ব্যবস্থার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই মনোহরপুর ইউনিয়ন থেকে ইস্যু করা জন্মসনদগুলো যাচাই-বাছাই করে ভুয়া সনদ বাতিল এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রায়হান ফিরোজ ও হিসাব সহকারী মোছা. মাহমুদা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রধান রিপন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুঠোফোনে জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।