ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ হলেও ওয়ার্ড পর্যায়ে এখনো প্রশাসক না থাকায় বরিশালের বাকেরগঞ্জে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সনদ পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি গত তিন মাস ধরে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নাগরিকদের ভিজিডি কার্ডের চাল পাওয়াও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জের ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসকেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করলেও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক ও নাগরিক সেবা কার্যক্রমে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকদের দাবি, ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশাসক না থাকায় মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের পরও প্রত্যাশিত গতিশীলতা ফিরছে না নাগরিক সেবায়।
গারুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, ওয়ার্ড প্রশাসক না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ আটকে আছে। বিশেষ করে ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজপত্র যথাসময়ে সংগ্রহ করতে পারছেন না তারা। এতে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তি বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু সনদপ্রাপ্তিই নয়, ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশাসক না থাকায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। গত তিন মাস ধরে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নাগরিকেরা ভিজিডি কার্ডের চাল পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, ওয়ার্ডগুলোর জন্য প্রশাসক নিয়োগের তালিকা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ হলে ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবায় গতি ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন সেবা প্রত্যাশীরা।