সেতুর এক পাশে গভীর গর্ত, অন্য পাশে ভাঙা সংযোগ সড়ক। পিচ উঠে গেছে, ভেঙে পড়েছে সড়কের কিনারা। বর্ষায় গর্তে জমে পানি। এর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ধীরগতিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে অটোরিকশা, রিকশাসহ হালকা যানবাহন। আর এই নড়বড়ে পথই চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার সাত গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান ভরসা।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার বালাবাড়িহাট থেকে সাদুল্লাগামী সড়কের তিস্তা খালের ওপর থাকা প্রায় চার দশকের পুরোনো সেতুটির এমন বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ সেতুটি ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর কেটে গেছে প্রায় সাত বছর। কিন্তু এখনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি শুধু নয়, এর দুই পাশের সংযোগ সড়কের অবস্থাও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকির পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও তৈরি হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বেশ কয়েকটি স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের কিনারা ভেঙে গেছে। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অটো ও রিকশাচালকদের সেতু পার হতে দেখা যায় অত্যন্ত সতর্কভাবে। একটু অসাবধান হলেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সিঙের ভিটা, নালারপাড়, হাজিপাড়া, চাচিয়ারপাড়, উত্তর সাদুল্যা, দক্ষিণ সাদুল্যা ও উমানন্দসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। উপজেলা সদর, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে অনেকেরই এই পথ ব্যবহার করতে হয়।
স্থানীয় শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার বলেন, ‘সেতু পার হতে খুব ভয় করে। দীর্ঘদিন ধরে শুনছি নতুন সেতু হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কাজ হতে দেখিনি।’
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মাহবুব বলেন, ‘সাতটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই পথ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিকার পেতে কি আমাদের বড় কোনো প্রাণহানির জন্য অপেক্ষা করতে হবে?’
এলাকাবাসীর দাবি, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের (পিআইও) পক্ষ থেকে মাপজোক করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আপত্তির কারণে সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি বলে তারা জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও অবহেলার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ এবং সংযোগ সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাইদুর রহমান বলেন, ‘সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এটি ব্যবহার করছেন। সেতুর পাশাপাশি সংযোগ সড়কের অবস্থাও নাজুক। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।’
চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) প্রদীপ কুমার বলেন, ‘আমি সম্প্রতি চিলমারীর দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।’
তবে সম্প্রতি বদলি হওয়া কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলী বলেন, ‘উক্ত সেতুটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সেতু ও সংযোগ সড়ক সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নতুন সেতু নির্মাণের পাশাপাশি আপাতত সংযোগ সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।