দুই কোটি টাকার সড়কে হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

সারাদেশ

নির্মাণ শেষ হতে না হতেই হাত দিয়ে ঘষা দিলেই উঠে আসছে সড়কের কার্পেটিং। কোথাও আবার পা দিয়ে চাপ দিলেও আলগা

2026-09-22T18:27:44+00:00
2026-09-22T18:27:44+00:00
  বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৮ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
দুই কোটি টাকার সড়কে হাত দিলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
নির্মাণ শেষ হতে না হতেই হাত দিয়ে ঘষা দিলেই উঠে আসছে সড়কের কার্পেটিং। কোথাও আবার পা দিয়ে চাপ দিলেও আলগা হয়ে যাচ্ছে পিচের আস্তরণ। ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়কে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ ঘটনায় কাজের মান ও প্রকৌশলীদের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা খানবাড়ী তিন রাস্তার মোড় থেকে নির্মাণাধীন ২ হাজার ৩৯৮ মিটার সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশে সম্প্রতি কার্পেটিং করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাপ্পি এন্টারপ্রাইজ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্পেটিং শেষ হওয়ার এক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পিচের আস্তরণ উঠে আসতে শুরু করে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়ক প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নির্মাণ ও সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধলা খানবাড়ী তিন রাস্তার মোড় এলাকায় সদ্য কার্পেটিং করা সড়কের বিভিন্ন অংশ হাত দিয়ে ঘষা দিলে পিচ ও কার্পেটিংয়ের স্তর উঠে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্পেটিংয়ের সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যায়।

কাজের মান নিয়ে স্থানীয়রা আপত্তি জানালে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে প্রচার করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রোকন আল ইবনে মাহাদী ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কটি পরিদর্শন করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাটি লেভেল করার পর প্রয়োজনীয় ইটখোয়া, বালু ও পাথরের স্তর যথাযথভাবে প্রস্তুত না করেই কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে সড়কের সঙ্গে কার্পেটিংয়ের যথাযথ বন্ধন তৈরি হয়নি। এ কারণেই সামান্য চাপেই পিচ উঠে আসছে বলে তাদের দাবি।

নির্মাণকাজের বিভিন্ন ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, উপকরণের মান, স্তরের পুরুত্ব ও মিশ্রণের অনুপাতসহ প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে যাচাই করা হলে এমন ত্রুটি আগেই ধরা পড়ত।

স্থানীয় বাসিন্দা আতাহারুল ইসলাম বলেন, পা দিয়ে চাপ দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। নতুন সড়কে এমন হওয়ার কথা নয়। নির্মাণকাজের সময় আমরা প্রতিবাদ করলেও কোনো কাজে আসেনি।

আরেক বাসিন্দা মো. এখলাস আলী বলেন, সড়কে প্রয়োজনীয় উপকরণ ঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি বলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এখনই যদি এমন অবস্থা হয়, ট্রাক চলাচল শুরু হলে সড়কে কী থাকবে?

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাপ্পি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। কার্পেটিং উঠে গেলে আমার কী করার আছে। কিছু বোঝার বাকি থাকলে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

ত্রিশাল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. যুবায়েত হোসেন বলেন, সড়কের অনিয়মের বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে অবগত আছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নির্মাণের পরপরই কার্পেটিং উঠে যাওয়ার ঘটনায় পুরো সড়কের কাজের মান পরীক্ষা ও কারিগরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন করে কার্পেটিং করলেই হবে না; ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের পুরুত্ব, নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং প্রকল্পে প্রকৌশলীদের তদারকি যথাযথ ছিল কি না—সবকিছু পরীক্ষা করা প্রয়োজন।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: