চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের বকশিরখীল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক না থাকায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মশিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় নিয়মিত ধর্মীয় ক্লাস ও ধর্মঘণ্টা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা। তাঁদের দাবি, অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এ শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কাঞ্চনা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি যায়েদ হোসেন বলেন, ‘আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা শিক্ষা অফিসে বারবার লিখিত আবেদন দেওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত কোনো মুসলিম শিক্ষক পদায়ন করেনি। দ্রুত একজন মুসলিম শিক্ষক পদায়ন করে শিক্ষার্থীদের ধর্মশিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইউনূছ বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে আবেদন করেছি। তারপরও কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’
এ বিষয়ে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও একটি মৌখিক বা লিখিত অভিযোগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিক্ষক পদায়ন একটি নিয়মিত ও কেন্দ্রীয় বদলি প্রক্রিয়ার অংশ। খুব শিগগিরই শূন্যপদ বা প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বিদ্যালয়টিতে একজন মুসলিম শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের ধর্মশিক্ষা আর ব্যাহত না হয়।’
সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্মচর্চা ও শিক্ষার সুযোগ থাকা উচিত। কাঞ্চনার ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে ধর্মশিক্ষা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছি। দ্রুত এ সমস্যার একটি সন্তোষজনক সমাধান করা হবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমদ বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ঘাটতি পূরণের জন্য আমরা সচেষ্ট আছি। কাঞ্চনার বিদ্যালয়টির সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হবে। আশপাশের কোনো বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত মুসলিম শিক্ষক থাকলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার প্রস্তাবনা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।’
অভিভাবকেরা বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা স্কুলে যায় শিক্ষার আলো নিতে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ধর্মের ক্লাস না হওয়ায় তারা পিছিয়ে পড়ছে। অন্য সব বিষয়ের মতো ধর্মশিক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অবিলম্বে বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।