নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বেড়েছে। গত এক মাসে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত ৪৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ২৩ জন এবং হামে আক্রান্ত ২৪ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত এসব রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেলা শহরসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত তিনজন এবং হামে আক্রান্ত তিনজন ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের ব্যস্ততা বেড়েছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত আমিরাবাদ এলাকার মো. মুরাদ হোসেন (২৪) জানান, চার দিন আগে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো।
ফতেহপুর এলাকার রুনা আক্তার জানান, তাঁর এক বছর বয়সী শিশু হুমায়ারা হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসায় বর্তমানে শিশুটির অবস্থারও উন্নতি হয়েছে।
চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিন আক্তার বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু ও হাম—দুই রোগেরই প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান ও সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি। কারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার আহ্বান জানান এই চিকিৎসক।