জুড়ীতে সিএনজি চালক হত্যার রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার

জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

সারাদেশ

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে অটোরিকশা চালক আবুল কালাম বুলুচাঁন(৩৯) হত্যার রহস্য উন্মোচন।হত্যার পর তাঁর লাশ জুড়ী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার

2026-09-18T18:01:51+00:00
2026-09-18T18:01:51+00:00
  রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
জুড়ীতে সিএনজি চালক হত্যার রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার
জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০১ পিএম 
জুড়ীতে সিএনজি চালক হত্যার রহস্য উন্মোচন, মা-মেয়ে গ্রেপ্তার
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে অটোরিকশা চালক আবুল কালাম বুলুচাঁন(৩৯) হত্যার রহস্য উন্মোচন।হত্যার পর তাঁর লাশ জুড়ী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন সমন্ধিকের বউ ও তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আছমা বেগম (৩৮) ও তাঁর মেয়ে লিমা আক্তারকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের জাঙ্গিরাই এলাকায় জুড়ী নদীতে ভাসমান অবস্থায় কালামের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনেরা লাশটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত আবুল কালাম পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বড় ধামাই গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার আছমা বেগম পাশের গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কচুরগুল নালাপুঞ্জি এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাম দুটি বিয়ে করেছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী আছমা বেগমের ননদ। স্বামী বশির আহমদ মারা যাওয়ার পর আছমা দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। পরিবারের ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি একটি সিএনজি অটোরিকশা কিনে সেটি ভাড়ায় চালানোর জন্য কালামকে দেন। এ কারণে কালামের ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে আছমার সঙ্গে কালামের  পরকিয়ার সম্পর্ক তৈরি হয়। গত মঙ্গলবার রাতে কালাম আছমাদের বাড়িতে যাওয়ার পর আর বাড়িতে ফেরেননি। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে জুড়ী নদীতে তাঁর লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদনে কালামের গলায় একাধিক কোপের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় কালামের ছোট ভাই হাফিজ উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জুড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্তের একপর্যায়ে কালামের মুঠোফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে আছমা ও তাঁর মেয়ে লিমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছমা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। নিহত কালাম ঘটনার দিন আছমা বেগম কে বিয়ের প্রস্তাব দিলে আছমা সামাজিকভাবে মানুষের বিরুপ প্রতিক্রিয়ার কথা চিন্তা নাকচ করে ছেলে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরলে এক পর্যায়ে বাক বিতন্ডা সৃষ্টি হয়। তখন আছমা বেগম দা দিয়ে কালাম কে তিনটি কুপের আঘাত করে ঘটনাস্হলেই সে মারা যায়। পরে মেয়ে কে সাথে নিয়ে একটি কলা গাছের ভেলায় বেঁধে কালামের লাশ বাড়ীর পাশের একটি খালে ফেলে দেয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি দা ও কালামের মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। মামলায় মা-মেয়েকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হবে এবং তাঁদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: