রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় স্ত্রীকে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় পলাতক স্বামী মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে মিনারকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৪। হত্যাকাণ্ডের তিন দিনের মধ্যে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পৃথক অভিযানে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ জালনোট ও জালনোট তৈরির সরঞ্জামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে একই ইউনিট।
এসআরবি-৪ জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে শাহ আলী থানার চিলড্রেন পার্ক পানির পাম্পসংলগ্ন একটি টিনশেড বাসায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান মনিরুল ইসলাম। ঘটনার পর হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে আভিযানিক দল।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তেজগাঁও থানার কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৪-এর দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, নিহত নারীর প্রথম স্বামী প্রায় ১৪ বছর আগে মারা যান। প্রায় ছয় মাস আগে মনিরুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন তারা বনানীতে বসবাস করলেও চলতি মাসের শুরুতে শাহ আলী এলাকার ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন।
নিহত নারী গ্রামে জমি বন্ধক রেখে ৭০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। ওই টাকা নেওয়ার জন্য মনিরুল তাকে চাপ দিচ্ছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।
১৪ সেপ্টেম্বর রাতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে মনিরুল হাতের কাছে থাকা চাকু দিয়ে স্ত্রীর গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানায় এসআরবি-৪। পরে নিহতের ছেলে বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় হত্যা মামলা করেন।
আশুলিয়ায় জালনোটসহ গ্রেপ্তার ৪
এদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের আশুলিয়া থানার মধ্য গাজিরচট এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবি-৪। একটি কারখানার পেছনে অভিযান চালিয়ে ৫০, ১০০, ২০০ ও ৫০০ টাকার বিপুল পরিমাণ জালনোট, একটি ল্যাপটপ, জালনোট তৈরির মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—সাজ্জাদ হোসেন আকাশ (২৫), মো. ইভান রানা (২০), মো. মামুন মিয়া (২৪) ও মো. নাদিম সর্দার (২০)।
এসআরবি-৪ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার মধ্য গাজিরচট এলাকায় লোকচক্ষুর আড়ালে জালনোট তৈরি করে আসছিলেন। পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব জালনোট সরবরাহ করা হতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।