বয়স মাত্র সাত বছর। এরই মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের নৃত্য প্রতিযোগিতায় একের পর এক সাফল্য অর্জন করে নজর কেড়েছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চোপিনগর গ্রামের আর জেড রংধনু। এবার সৃজনশীল নৃত্যে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ‘নৃত্য রত্ন’ পুরস্কার পেয়েছে ক্ষুদে এই প্রতিভাবান।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ‘সোহাগ ডান্স ট্রুপ স্বর্ণ মুকুট নৃত্য রত্ন’ প্রতিযোগিতা। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার প্রতিযোগী অংশ নেয়। ‘ক’ গ্রুপের সৃজনশীল নৃত্য বিভাগে অংশ নিয়ে রংধনু অর্জন করে তৃতীয় স্থান।
১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। রংধনু বর্তমানে শেরপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী।
এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ‘শিশু জাদুঘর’ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘নৃত্যময় দেশব্যাপী জাতীয় নৃত্য প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেরার সেরা স্বর্ণপদক-২০২৬’ প্রতিযোগিতায় লোকনৃত্যের ‘ক’ গ্রুপে অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করে সে।
এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১১ সেপ্টেম্বর শেরপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে রংধনুকে ‘বিশেষ সম্মাননা-২০২৬’ স্মারক দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমুর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
এদিকে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৪টায় ঢাকার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রংধনুর হাতে স্বর্ণপদক ও পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
রংধনু বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা ডা. মো. মনিরুজ্জামান স্বপন ও মা ডা. রাফসানা জাহান দীপা। বর্তমানে তারা শেরপুর উপজেলার হাসপাতাল রোড এলাকায় বসবাস করছেন।
ছেলের সাফল্যে আনন্দিত বাবা-মা জানান, ছোটবেলা থেকেই নৃত্যের প্রতি রংধনুর আগ্রহ ছিল। তার আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের ব্যবস্থা করেন তাঁরা। মাত্র চার মাসের প্রশিক্ষণেই জাতীয় পর্যায়ে একাধিক পুরস্কার পাওয়ায় তাঁরা গর্বিত। ভবিষ্যতে রংধনুর প্রতিভা বিকাশে পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তাঁরা।
রংধনুর নৃত্যশিক্ষক শেরপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য শিক্ষক মো. তিতুমীর বলেন, ‘আমার নৃত্যকলা বিভাগের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি। আর জেড রংধনু মাত্র চার মাস নৃত্য শিখেই জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে স্বর্ণপদকসহ কৃতিত্ব অর্জন করেছে। একজন শিক্ষক হিসেবে এটি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, রংধনু খুব অল্প সময়ে ভালো করেছে। ভবিষ্যতে তাকে আরও বড় পরিসরে সাফল্য অর্জন করতে দেখতে চান তিনি।
মাত্র চার মাসের প্রশিক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে একাধিক পুরস্কার অর্জন করে ইতোমধ্যে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে রংধনু। পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নৃত্যকলায় ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে এই ক্ষুদে শিল্পী।