দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফিরছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের উদ্যোগে কুমার নদে আয়োজিত এ নৌকাবাইচকে ঘিরে পুরো উপজেলায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টায় কুমার নদের পশ্চিম প্রান্তের সোনাখোলা এলাকা থেকে নৌকাবাইচ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্ব প্রান্তে বড় ব্রিজ অতিক্রম করে শাহ্শাহেব বাড়ির ঘাট পর্যন্ত প্রতিযোগিতার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাইচ উপলক্ষে কয়েক দিন ধরে ভাঙ্গা বাজার ও আশপাশের এলাকায় মেলা বসেছে।
নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পরিবারগুলো আত্মীয়স্বজনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। কয়েক দিন ধরে নদীতে বিভিন্ন নৌকা, ট্রলার ও স্পিডবোট নিয়ে মহড়া এবং নৌকা সাজানোর কাজও চলছে।
তিন স্তরের নিরাপত্তা
বাইচকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে বলে জানিয়েছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। পাশাপাশি দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
বাইচ কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, নৌকাবাইচের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মেডিকেল টিম, ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস, র্যাব, পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা মাঠে থাকবেন। দর্শনার্থীদের জন্য ভাঙ্গা পৌরসভার সামনে দুটি বড় পর্দায় বাইচ সরাসরি দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বাইচ চলাকালে নির্ধারিত এলাকায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নৌকা, ট্রলার, স্পিডবোটসহ অন্য কোনো নৌযান চলাচল করতে দেওয়া হবে না। পুলিশ সুপার শাহরিয়া মোহাম্মদ মিয়াজী সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকি করবেন।
ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, গ্রামবাংলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে ঘিরে মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। বাইচে প্রধান অতিথি হিসেবে সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান তিনি।
বাইচ কমিটির সদস্যসচিব ও ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম বলেন, বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজন সফল করতে পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এদিকে নৌকাবাইচকে ঘিরে প্রায় ১৫ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। এতে ভাঙ্গাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের অংশগ্রহণে কুমার নদপাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা তাঁদের।