চট্টগ্রামের বাজারে বড় ইলিশের দেখা মিলছে কম, আর দেখা মিললেই দাম শুনে চোখ কপালে উঠছে ক্রেতাদের। এরই মধ্যে কাজীর দেউড়ি বাজারে এসেছে প্রায় পৌনে তিন কেজি ওজনের একটি ইলিশ। মাছটির প্রতি কেজির দাম হাঁকা হয়েছিল সাড়ে ৫ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৩০০ টাকায় মাছটি কিনে নেন এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। মাথা-লেজ বাদ দিয়ে আট পিস হওয়ায় প্রতি পিসের দাম পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের সরবরাহ তুলনামূলক কম। বড় ইলিশের সংকটে এ ধরনের মাছ সাধারণ ক্রেতাদের অনেকটাই নাগালের বাইরে চলে গেছে। উপকূলীয় মৎস্যঘাটগুলোতেও বড় ইলিশ উঠলে তা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
কাজীর দেউড়ি বাজারের মাছ বিক্রেতা লিটন জানান, বিশাল আকৃতির ইলিশটি বরিশাল থেকে আনা হয়েছে। এর ওজন প্রায় পৌনে তিন কেজি। প্রতি কেজির দাম সাড়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এত দাম দিয়ে মাছ কে কিনবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, বড় ইলিশ সবসময় বাজারে আসে না। তাই কেউ না কেউ এটি কিনবেন।
কিছুক্ষণ পর মাছটি দেখতে আসেন এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। মাছটি হাতে নিয়ে আকার ও গন্ধ পরীক্ষা করেন তিনি। পরে মাছ কাটার লোকজনকে ডেকে কত পিস হবে, তা জানতে চান। তাদের হিসাব অনুযায়ী, মাথা ও লেজ বাদ দিলে মাছটি আট পিস হবে।
এরপর দরদাম শেষে ১৪ হাজার ৩০০ টাকায় মাছটি কিনে নেন ওই ব্যবসায়ী। অর্থাৎ প্রতিটি পিসের দাম পড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা।
মাছটি কেনার পর ব্যবসায়ী এর ছবি রেস্টুরেন্টের কর্মীদের পাঠিয়ে জানান, বড় ইলিশ কেনা হয়েছে। কাস্টমার খুঁজে মাছটি বিক্রির প্রস্তুতি নিতে বলেন। কিছুক্ষণ পর রেস্টুরেন্ট থেকে ফোন করে প্রতি পিসের দাম জানতে চাওয়া হয়। ব্যবসায়ী ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে পিস বিক্রির নির্দেশ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী বলেন, মাছটি লাভের জন্য কেনা হয়নি; বরং রেস্টুরেন্টের সুনামের জন্য এমন বড় ইলিশ সংগ্রহ করা হয়েছে।