ডেঙ্গু মোকাবিলায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ অনুদান দিয়েছেন। এ অর্থ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের জন্য ৩০টি হাসপাতাল বেড কেনায় ব্যয় করা হবে।
এদিকে নগরবাসীকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দিতে কেসিসির নগর স্বাস্থ্য ভবনে জ্বরে আক্রান্তদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) খুলনা সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা রোডের নগর স্বাস্থ্য ভবনে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভাগীয় ও জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে একটি অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নগর স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ।
সভায় রাজীব আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা ও শরীরে লালচে দানা ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, সাধারণ চিকিৎসায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব হলেও হেমোরেজিক ডেঙ্গু মারাত্মক হতে পারে। তাই রোগের বাহক এডিস মশার বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
রাজীব আহমেদ আরও বলেন, এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। ফলে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
কেসিসি সূত্রে জানানো হয়েছে, নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি জ্বরে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা, বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও ওষুধ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতনের অর্থ দিয়ে ৩০টি হাসপাতাল বেড কেনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।