চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিরাপদ খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর আওতায় বাবুর্চি ও খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতি শনিবার রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব তথ্য জানান।
জেলা প্রশাসক বলেন, অনিয়মের কারণে কোনো কোনো রেস্তোরাঁকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হলেও কয়েক মাস পর আবার একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। তাই শুধু জরিমানা বা শাস্তির মাধ্যমে নয়, রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করেই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে চায় প্রশাসন।
তিনি বলেন, জরিমানা ও শাস্তির মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। রেস্তোরাঁগুলোর টেকসই পরিবর্তনের জন্য মালিক ও কর্মীদের নিজেদের দায়িত্বশীলতা থেকেই উদ্যোগী হতে হবে।
জেলা প্রশাসক জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময়ও নানা অনিয়ম ধরা পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে রেস্তোরাঁ মালিক ও সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে জেলা প্রশাসন। বৈঠকে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে একটি দিন রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হবে। রেস্তোরাঁ মালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী শনিবার দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আগামী শনিবার রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের নিয়ে একটি র্যালি আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁগুলো নির্ধারিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কতটা বাস্তবায়ন করছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, রেস্তোরাঁ মালিকদের পক্ষ থেকে বাবুর্চি ও খাবার প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রশিক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের তালিকা চেয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রশিক্ষণের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, রেস্তোরাঁর কর্মীদের হাইজিন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কীভাবে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা যায়, সে বিষয়েও তাদের সচেতন করা হবে।
খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করা এবং অনিরাপদ খাবার গ্রহণের কারণে কর্মীরাও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এর আগে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে নির্ধারিত মান বজায় রাখার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যে গ্রেডের লাইসেন্স নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে, সেই মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে গ্রেড কমিয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
নিয়মিত গণশুনানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতি বুধবার চিকিৎসাসহায়তার জন্য অনেক মানুষ জেলা প্রশাসনের কাছে আসেন। তাদের মধ্যে কিডনি রোগীও রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ভেজাল ও অনিরাপদ খাবারের কারণে সৃষ্ট জনস্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণ। জনগণ অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ মালিক, কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক।