ইঁদুরের মস্তিষ্কে ‘মানুষের’ টিস্যু, মিলল স্নায়বিক সংযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্বাস্থ্য

ইঁদুরের মস্তিষ্কে বেড়ে উঠল মানব মস্তিষ্কের টিস্যু—তৈরি করল রক্তনালি ও স্নায়বিক সংযোগ। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা মানব মস্তিষ্কের বিকাশ

2026-09-17T17:33:16+00:00
2026-09-17T17:33:16+00:00
  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বাস্থ্য
ইঁদুরের মস্তিষ্কে ‘মানুষের’ টিস্যু, মিলল স্নায়বিক সংযোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম 
প্রতীকী ছবি
ইঁদুরের মস্তিষ্কে বেড়ে উঠল মানব মস্তিষ্কের টিস্যু—তৈরি করল রক্তনালি ও স্নায়বিক সংযোগ। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা মানব মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্নায়বিক রোগ বোঝার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

কয়েক মাসের মধ্যেই প্রতিস্থাপিত মানব টিস্যু ইঁদুরের মস্তিষ্কের বড় একটি অংশ দখল করে নেয় এবং ইঁদুরের স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে। গবেষণাটি মানব মস্তিষ্কের বিকাশ, স্নায়বিক রোগ এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা নিয়ে গবেষণায় নতুন একটি মডেলের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকেরা এমন কিছু ইঁদুর তৈরি করেন, যাদের মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স ও হিপোক্যাম্পাসের বড় অংশ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়নি। ফলে সেখানে প্রতিস্থাপিত মানব মস্তিষ্কের টিস্যু বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি হয়।

গবেষণায় নবজাতক ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানব কর্টিক্যাল অর্গানয়েড প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর ইঁদুরের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানব টিস্যুও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। মাত্র তিন মাসের মধ্যে ইঁদুরের কর্টেক্সের মোট টিস্যুর ৯০ শতাংশের বেশি মানব উৎসের টিস্যুতে পরিণত হয়।

শুধু বেড়ে ওঠা নয়, তৈরি হলো সংযোগও

গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—মানব টিস্যু শুধু ইঁদুরের মস্তিষ্কে জায়গা করে নেয়নি; এটি রক্তনালি তৈরি করেছে এবং ইঁদুরের স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। কিছু মানব নিউরনের প্রক্ষেপণ মেরুদণ্ড পর্যন্তও পৌঁছেছে।

স্ট্যানফোর্ডের স্নায়ুবিজ্ঞানী সার্জিউ পাশকার ভাষ্য, প্রাণীগুলো অবশ্যই ইঁদুরই রয়ে গেছে। তাদের স্নায়ুতন্ত্র, সংবেদনশীল অঙ্গ ও মস্তিষ্কের সাবকর্টিক্যাল কাঠামো ইঁদুরের। তবে তাদের কর্টিক্যাল টিস্যুর বড় অংশ এসেছে মানব উৎস থেকে এবং সেই মানব নিউরনগুলো ইঁদুরের স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে কার্যকরভাবে একীভূত হয়েছে।

এর আগে বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরিতে মানব মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র ত্রিমাত্রিক কাঠামো বা ‘অর্গানয়েড’ তৈরি করতে পারলেও সেগুলোর বড় সীমাবদ্ধতা ছিল। অর্গানয়েডে পুরো শরীরের মতো রক্ত সরবরাহ, সংবেদনশীল তথ্য বা পেশির সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ থাকে না।

২০২২ সালে পাশকা ও তাঁর সহকর্মীরা নবজাতক ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানব কর্টিক্যাল অর্গানয়েড প্রতিস্থাপন করে দেখেছিলেন, মানব নিউরন ইঁদুরের মস্তিষ্কের সঙ্গে একীভূত হতে পারে এবং ইঁদুরের গোঁফ থেকে আসা সংবেদনশীল তথ্যের প্রতিও সাড়া দিতে পারে। তবে মানব ও ইঁদুরের নিউরনের বিকাশের গতি আলাদা হওয়ায় তখন প্রতিযোগিতার একটি সমস্যা ছিল।

নতুন গবেষণায় সেই বাধা এড়াতেই ইঁদুরের মস্তিষ্কে আগে থেকেই জায়গা তৈরি করা হয়।

তৈরি হলো বিরল মানব নিউরন

গবেষণায় আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উঠে এসেছে। মানব টিস্যুতে এমন কিছু নিউরন তৈরি হয়েছে, যেগুলো ল্যাবরেটরিতে অর্গানয়েডের মাধ্যমে তৈরি করা কঠিন।

এর মধ্যে রয়েছে ‘লেয়ার ৫ এক্সট্রাটেলেনসেফালিক’ বা L5-ET নিউরন। এসব নিউরন মস্তিষ্কের কর্টেক্স থেকে স্নায়ুতন্ত্রের দূরবর্তী অংশে সংকেত পাঠাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষকেরা ‘ভন ইকোনোমো নিউরন’ বা VEN-এর মতো কিছু নিউরনও শনাক্ত করেছেন। মানুষের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অঞ্চলে পাওয়া এই লম্বাটে আকৃতির নিউরন নিয়ে গবেষণা করা কঠিন ছিল। আগের গবেষণাগুলোতে এ ধরনের নিউরন তৈরি করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

ইঁদুরের আচরণেও কি প্রভাব পড়েছে?

মানব টিস্যু ইঁদুরের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, সেটিও পরীক্ষা করেন গবেষকেরা। এ জন্য তিন ধরনের ইঁদুরকে ‘Y’ আকৃতির গোলকধাঁধায় পরীক্ষা করা হয়।

স্বাভাবিক ইঁদুর এবং মানব টিস্যু প্রতিস্থাপিত ইঁদুরের ফলাফলে পার্থক্য দেখা যায়। মানব টিস্যু প্রতিস্থাপিত ‘জেনোকর্টিক্যাল’ ইঁদুরগুলো আগের চেয়ে ভালোভাবে গোলকধাঁধার বাহু নির্বাচন করতে পেরেছে। অন্যদিকে কর্টেক্স ও হিপোক্যাম্পাসের বড় অংশ না থাকা ‘অ্যাপ্যালিয়াল’ ইঁদুরগুলো একই ধরনের ফল দেখাতে পারেনি।

তবে শুধু এই পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মানব নিউরনই ইঁদুরের আচরণগত পরিবর্তনের জন্য দায়ী—এমন সিদ্ধান্তে যেতে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন গবেষকেরা।

রোগ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা

গবেষকদের মতে, এই মডেলের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা মানব মস্তিষ্কের রোগ নিয়ে গবেষণায়। বিশেষ করে ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া, এপিলেপসি, অটিজমসহ বিভিন্ন স্নায়বিক ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল রোগ বোঝার ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগতে পারে।

রোগীর কোষ থেকে মানব কর্টিক্যাল অর্গানয়েড তৈরি করে তা ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করলে রোগে নির্দিষ্ট নিউরন কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ওষুধ বা চিকিৎসা এসব নিউরনকে রক্ষা করতে পারে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা যেতে পারে।

গবেষক সার্জিউ পাশকারের মতে, জীবন্ত শরীরের মধ্যে মানব নিউরনকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়ায় এমন কিছু সংকেত পাওয়া সম্ভব, যা কৃত্রিমভাবে তৈরি অর্গানয়েডে পাওয়া কঠিন। তবে এই নতুন মডেলের কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।


Loading...
Loading...

স্বাস্থ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: