ডেঙ্গুর লাগাম টানতে নানা কর্মসূচি সরকারের

সাইদুল ইসলাম

স্বাস্থ্য

রাজধানীসহ সারাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এতে হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে। গতকাল রোববার দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে

2026-09-14T12:15:12+00:00
2026-09-14T12:15:37+00:00
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বাস্থ্য
ডেঙ্গুর লাগাম টানতে নানা কর্মসূচি সরকারের
চলতি বছর মৃত্যু ১৪৯, আক্রান্ত ৫০ হাজার, মশক বিভাগকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ
সাইদুল ইসলাম
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম  আপডেট: ১৪.০৯.২০২৬ ১২:১৫ পিএম
এআই ছবি
রাজধানীসহ সারাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এতে হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে। গতকাল রোববার দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৬১ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ১৪৯ জনের মৃত্যু হলো। আর আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৫০ হাজার। এমতাবস্থায় ডেঙ্গুর লাগাম টানতে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। মশক নিধন ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাছাড়া, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে সিটি কর্পোরেশনগুলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ফলে দ্রুত ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে সরকার।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৮ হাজার ৯৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৪৯ জনের। আর গত বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং এতে মারা যান ৪১৩ জন। এর আগে ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং এতে মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। তবে এর মধ্যে ঢাকায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। অথচ মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ রাখছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। আর এ টাকা ব্যয় দেখানো হচ্ছে এ খাতেই। কিন্তু ডেঙ্গুর লাগাম টানতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করলেও তা কিছু দিন না যেতেই মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলে মশার কামড়ে ডেঙ্গুসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। সম্প্রতি মশা বেড়ে যাওয়ায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। তারা সকাল-বিকাল দ্বিগুণ হারে কীটনাশক প্রয়োগসহ নানা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি এডিসের লার্ভার বিরুদ্ধে অভিযানসহ জনসচেতনতার উপর জোর দেয়া হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই এর লাগাম টানা যাচ্ছে না। ফলে দুই সিটি করপোরেশনের মশক বিভাগকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর তাগিদ দিয়েছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এডিস মশা যেখানে হয় সেখানে টার্গেট করে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা করতে হবে। যেখানে হয়তো আমরা পারছি না, কেন পারছি না সেটা বের করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ঢাকা নয় উপজেলাতেও মশা ছড়িয়ে পড়েছে। কেন উপজেলাতে ডেঙ্গু হচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। এ বিষয়ে গবেষণা করার বিকল্প নেই। 

জানা যায়, বর্ষায় মূলত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি হয়। কিন্তু বর্ষা শেষের দিকে এলেও কমছে না ডেঙ্গুর দাপট। বরং অনেক এলাকায় নতুন করে বাড়ছে এডিস মশার বিস্তার। বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, ড্রেন, পরিত্যক্ত পাত্র ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন নতুন রোগী। রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মশক নিধন কার্যক্রম চালিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে দ্রুত। একই সাথে নগরবাসীকেও নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নড়েচড়ে বসেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান, লার্ভা শনাক্তকরণ এবং প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—প্রতি বছর বর্ষা এলেই কেন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা বাড়ে? কেন আগেভাগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় না? নগর পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মৌসুমি তৎপরতার পরিবর্তে বছরজুড়ে কার্যক্রম চালাতে হবে। বিশেষ করে বর্ষার আগেই এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে। একই সাথে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। 

এদিকে চিকিৎসকরা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন। উচ্চ জ্বর, প্রচন্ড মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি, দুর্বলতা কিংবা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন তারা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। কারণ শুধু অভিযান কিংবা মশার ওষুধ ছিটিয়ে নয়, সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এই রোগের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সেই উদ্যোগ যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, ততই কমবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকি। কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ডেঙ্গু থেকে রক্ষায় একটি জাতীয় পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। জাতীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে এডিস রোগ নিয়ন্ত্রণে কী কী করা যায় বিশ্লেষণ করে সব স্টেকহোল্ডারকে সাথে নিয়ে একটি জাতীয় পরিকল্পনা করতে হবে। এছাড়া, মশা জন্মানোর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যারা এর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন তারা টার্গেট করে মশা নিধন করতে হবে। এডিস মশা যেখানে হয় সেখানে টার্গেট করে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু এটা হচ্ছে না।  কেন হচ্ছে না তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। নতুবা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। 

এদিকে যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, এ জন্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। সারা বছর নিয়মিতভাবে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। মীর শাহে আলম বলেন, শনিবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু মশা নিধন নয়; বরং পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং নাগরিকদের মধ্যে স্থায়ী সচেতনতা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এডিস মশা যাতে বংশবিস্তার করতে না পারে, সেজন্য বাড়িঘর, নির্মাণাধীন ভবন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনার আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।



Loading...
Loading...

স্বাস্থ্য- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: