বাংলাদেশে এইচআইভি প্রতিরোধ কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও মানবিক করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের জন্য দুই দিনব্যাপী মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণে এইচআইভি প্রতিরোধের পাশাপাশি মানবাধিকার, জনস্বাস্থ্য, লিঙ্গ-সংবেদনশীল আইন প্রয়োগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও অধিকারভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাব্সটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সহযোগিতায় ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ গোলাম আজম। স্বাগত বক্তব্য দেন সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত।
প্রশিক্ষণে বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের এজাজুল ইসলাম চৌধুরী, আইসিডিডিআর,বির ড. মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম খান, সাবেক ইউএনএইডস বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. সাইমা খান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস/এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক ড. খাইরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া আইস্যাপ ও আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লক্ষ্য, কার্যক্রম ও ভূমিকা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট ও অ্যাডিকশন প্রফেশনাল এবং আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কমিউনিকেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ার রাখী গাঙ্গুলী।
প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনে কে. এস. এম. তারিক, এজাজুল ইসলাম চৌধুরী, পিএসটিসির তাজুল ইসলাম, ইউএনওডিসি বাংলাদেশ অফিসের এইচআইভি কো-অর্ডিনেটর মো. আবুতাহের এবং রাখী গাঙ্গুলী বিভিন্ন বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন। এদিন রাখী গাঙ্গুলী মানসিক স্বাস্থ্য ও মানবাধিকারের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং কাউন্সেলিংয়ের বিভিন্ন কেস স্টাডি নিয়ে অংশগ্রহণমূলক সেশন পরিচালনা করেন।
প্রশিক্ষণে বক্তারা বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকলে জনস্বাস্থ্যও আরও শক্তিশালী হয়। এইচআইভি প্রতিরোধ ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বৈষম্যহীন, মানবিক, নিরাপদ এবং অধিকারভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা বলেন, এইচআইভি প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে মানবাধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
মানবাধিকার ও জনস্বাস্থ্যের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আরও মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর এইচআইভি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণটি শেষ হয়।