
নাগাই স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই গোল হজম করে বাংলাদেশ। বিরতির পর ব্যবধান কমানোর দুটি ভালো সুযোগ পেয়েছিল দলটি। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় দক্ষিণ কোরিয়ার হাতে। শেষ ২৫ মিনিটে আরও চারবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠিয়ে বড় জয় নিশ্চিত করে তারা।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে ১০–০ গোলে হারের পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে একাদশে ছয়টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামেন কোচ পিটার বাটলার। প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতেই শুরু থেকে রক্ষণাত্মক পরিকল্পনায় খেলতে থাকে বাংলাদেশ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের মধ্যে ছিল বড় ব্যবধান—দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের চেয়ে ৯৪ ধাপ এগিয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ তৈরি করে দক্ষিণ কোরিয়া। ১৬ মিনিটে সেই চাপ থেকেই প্রথম গোলটি আসে। কিম মিন-জির শটে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া।
গোল হজমের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ধরে রাখেন গোলরক্ষক রূপনা চাকমা। ৩৩ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল প্রথম প্রচেষ্টায় ঠেকানোর পর ফিরতি শটও রুখে দেন তিনি। এর দুই মিনিট পর চু হাইজুর দূরপাল্লার শটও দারুণভাবে ফিস্ট করে বিপদমুক্ত করেন রূপনা।
তবে ৪২ মিনিটে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রক্ষণ ভাঙে দক্ষিণ কোরিয়া। দ্রুত প্রতি আক্রমণে উঠে জং দা-বিন গোল করলে বিরতির আগেই ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন দা-বিন, কিন্তু তাঁর হেড নিরাপদে তালুবন্দী করেন রূপনা।
বিরতির পর আক্রমণে ওঠার চেষ্টা বাড়ায় বাংলাদেশ। মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমারা মাঝমাঠ থেকে পাস বাড়িয়ে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করেন। এর ফলও আসে দ্রুত। ৫৬ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেন আনিকা সিদ্দিকী। তবে তাঁকে আটকে দেন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক।
দুই মিনিট পর আরও বড় সুযোগ পায় বাংলাদেশ। শামসুন্নাহার জুনিয়রের থ্রু পাস ধরে টপ কর্নার লক্ষ্য করে শট নেন আনিকা। কিন্তু এবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক।
পরপর দুটি সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে আসে। ৬৫ মিনিটে চোই ইউরির গোলে দক্ষিণ কোরিয়া এগিয়ে যায় ৩–০ ব্যবধানে। এরপর ৭৭ মিনিটে জি সো-ইউন গোল করলে ব্যবধান আরও বাড়ে। দুই মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোল করে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ইউরি।
ম্যাচের শেষ বাঁশির আগে যোগ করা সময়েও আরেকটি গোল হজম করে বাংলাদেশ। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে কো ইউ-জিনের গোলের মধ্য দিয়ে ৬–০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ কোরিয়া।
এশিয়ান গেমসে দুই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের জন্য পরিসংখ্যানটাও হতাশার। প্রতিপক্ষের কাছে দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করেছে দলটি, বিপরীতে এখনো কোনো গোল করতে পারেনি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।