দেশের উত্তরাঞ্চলে আবিষ্কৃত কয়লাখনিগুলোর মধ্যে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দীঘীপাড়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলনে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের নিজস্ব কয়লা জ্বালানি খাতে কাজে লাগানোর বিষয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
উত্তরাঞ্চলে আবিষ্কৃত পাঁচটি কয়লাখনিতে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ রয়েছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। এসব মজুদের মধ্যে দীঘীপাড়া কয়লাখনিতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কয়লা রয়েছে। জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে স্থানীয় কয়লার সম্ভাবনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের বড় একটি অংশ গ্যাসনির্ভর। গ্যাসের মজুদ সীমিত হওয়ায় ভবিষ্যতে বিকল্প জ্বালানি উৎসের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ অবস্থায় উত্তরাঞ্চলের কয়লাখনিগুলোকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিনাজপুরে বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী ও দীঘীপাড়া এবং রংপুরের খালাশপীর ও জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে কয়লার মজুদ শনাক্ত হয়েছে। এসব খনিতে বিপুল পরিমাণ কয়লা রয়েছে বলে বিভিন্ন অনুসন্ধানে জানা গেছে।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দীঘীপাড়া কয়লাখনিটি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর আবিষ্কার করে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক কূপ খননের মাধ্যমে খনিটির কয়লার মজুদ যাচাই করা হয়।
পরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থার মাধ্যমে খনিটিতে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জরিপ শেষে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীঘীপাড়া কয়লাখনি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
প্রকল্পের জরিপ ও তদারকি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খনিটির সম্ভাব্যতা নিয়ে কাজ করেন। এ কাজে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জরিপ শেষে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা খনিটির সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। তবে এখন পর্যন্ত খনিটি বাস্তবায়ন ও কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কয়লা আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারের দামের ওঠানামার প্রভাবও পড়ে দেশের জ্বালানি খাতে।
এ অবস্থায় দেশে থাকা কয়লার মজুদ উত্তোলনের আগে পরিবেশগত প্রভাব, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, প্রযুক্তিগত বিষয় এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, দীঘীপাড়া কয়লাখনি নিয়ে দীর্ঘদিনের জরিপ ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর এখন সরকারের উচিত প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেই কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।