
বুধবার রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা আহত হন। তারা হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল।
আহত আনসার সদস্যরা হলেন শাহিনুর শাহীন, মোস্তাফিজুর রহমান, আনোয়ার হোসেন ও আজাদ। তাদের ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বগুড়া জেলা কমান্ড্যান্ট গোলাম মৌলাহ্ তুহিন।
জানা গেছে, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় হামলায় জড়িত সন্দেহে চার শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আটক চার শিক্ষার্থী হলেন বোরহান উদ্দিন (১৮), তানভীর আহমেদ (১৭), সামির আহম্মেদ (১৮) ও রিশাদ হাসান (১৭)। তারা বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাতে শহরের বৌ-বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন আহত হন। তার বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন। সেখানে রোগীকে ওয়ার্ডে নেওয়ার জন্য ট্রলি সংগ্রহের সময় ট্রলি বহনের দায়িত্বে থাকা নাহিদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে রোগীর স্বজন ও বন্ধুদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হট্টগোল ঠেকাতে এগিয়ে যান আনসার সদস্যরা। তখন তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ইনচার্জ ইকবাল বাহার জানান, জরুরি বিভাগের সামনে রোগীকে ওয়ার্ডে নেওয়ার জন্য ট্রলি সংগ্রহকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। আনসার সদস্যদের ছুরিকাঘাত করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হট্টগোলে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দুই দফা হামলায় চিকিৎসকসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে নিরাপত্তার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করেন।