
মোহনগঞ্জ ছাড়াও খালিয়াজুড়ী, আটপাড়া, বারহাট্টা এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও শাল্লা উপজেলার আংশিক এলাকার রোগীরা এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। এসব এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য নিয়মিত এখানে আসেন।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলক কান্তি তালুকদার জানান, ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে অনুমোদিত ২১১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১১৮ জন। ফলে ৯৩টি পদই শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালে একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই। তিনটি ইসিজি মেশিনের মধ্যে দুটি অচল। অন্যটি সচল থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় নিয়মিত ইসিজি সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সনোলজিস্ট নেই। এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও দক্ষ টেকনিশিয়ানের সংকটও রয়েছে।
হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও তা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ে। গরমে অস্বস্তির পাশাপাশি পানি সংকটেও পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের।
হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার এবং গাইনি চিকিৎসক থাকলেও এনেসথেসিওলজিস্ট না থাকায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর আগে সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা খাতুনের সময়ে অপারেশন থিয়েটারে সিজার কার্যক্রম চালু হয়েছিল। বর্তমানে তা আর চলছে না।
হাসপাতালের পুরোনো ভবনে থাকা সিসি ক্যামেরাগুলোও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এতে হাসপাতালের ভেতরে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে কুকুর, বিড়াল, বানর ও শিয়ালের কামড়ের পর প্রয়োজনীয় টিকার সংকটেও ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। হাসপাতালের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বাইরে থেকে বেশি দামে এসব টিকা কিনতে হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া রেবিসের ইনজেকশনও গত ৮ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে গেছে।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে চাহিদার তুলনায় ওষুধের সরবরাহ কম থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না।
জরুরি বিভাগেও সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রোগীদের চাপ থাকে। সীমিত জনবল দিয়ে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও কর্মীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালটিতে দ্রুত জনবল বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি।