চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গু মশক নিধন বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু নির্দিষ্ট সময়ের মশক নিধন অভিযানে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা নিয়মিতভাবে ধ্বংস করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। এ কাজে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
সভায় জানানো হয়, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি প্রতিনিধি দল কয়েক দিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজননস্থল ঘরের ভেতরেও রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রজননস্থল ধ্বংসে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সভায় সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এম. শাহাব উদ্দীন জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ নেই, গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। এডিস মশা নির্মূল ও জনসচেতনতা বাড়াতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আটটি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম মশক নিধন কার্যক্রম তদারকি করবে।
সিভিল সার্জন জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মসজিদপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, নিউ ইসলামপুর, শিবতলা মোড় ও চরজোতপ্রতাপসহ কয়েকটি এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।