তিস্তার ভাঙনে কান্নার রোল, এখন কোথায় যায়া ঠাঁই নিমু!

ভোরের ডাক ডেস্ক

সারাদেশ

উত্তরের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

2026-09-16T19:07:22+00:00
2026-09-16T19:07:22+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
তিস্তার ভাঙনে কান্নার রোল, এখন কোথায় যায়া ঠাঁই নিমু!
ভোরের ডাক ডেস্ক
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
উত্তরের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কার্যকরভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিস্তার তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই নদীর পাড় ভেঙে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাচ্ছে না।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় সম্প্রতি ভাঙন তীব্র হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে তিস্তার স্রোতের চাপ বাড়ার পর হঠাৎ করে নদীর তীর ধসে পড়তে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত আহাদ মিয়া বলেন, সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, কীভাবে চলবেন—কিছুই বুঝতে পারছেন না।

ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলাতেও তিস্তার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত সাত দিনে এ দুই উপজেলায় ৮০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানা গেছে।

বসতভিটা হারিয়ে গবাদিপশু ও সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দিশেহারা নদীপাড়ের পরিবারগুলো। অনেকেই চোখের সামনে নিজের হাতে গড়া ঘর নদীতে বিলীন হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলাতেই তিস্তার ভাঙন চলছে। পানি কমা-বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোথাও কোথাও ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে।

লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, কিছু এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় বড় পরিসরে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

খুলিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান বাদল বলেন, তিস্তার ভাঙন কোনোভাবেই থামছে না; প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীতে বিলীন হচ্ছে।

রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলাতেও তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত সাত দিনে এসব উপজেলায় ৫৩টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন।

এদিকে নীলফামারীর ভাঙনকবলিত এলাকায় শত শত পরিবার খোলা জায়গায় দিন কাটাচ্ছে। কেউ বাঁধের ওপর, কেউ স্বজনের বাড়ির আঙিনায় আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক পরিবারের রান্না ও খাবারেরও ব্যবস্থা নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু ও শুকনা খাবারের প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চর খরিবাড়ির বাসিন্দা আব্দুল করিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এখন কোথায় যায়া ঠাঁই নিমু! ঘর তোলার শেষ সম্বলটুকুও কাড়ি নিল রাক্ষসী তিস্তা।’ তিনি জানান, দুই বছরে ছয়বার নদী ভাঙনের পর কোনোভাবে যে জায়গায় মাথা গুঁজেছিলেন, সেটিও এবার নদীতে চলে গেছে।

নদীপাড়ের মানুষের দাবি, বারবার জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তাদের ভাষ্য, ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না হলে প্রতিবছরই বসতভিটা হারাতে হবে।

তিস্তার ভাঙন প্রসঙ্গে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এই ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়। ২০২৭ সালের শুরুতেই নিজস্ব অর্থায়নে হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চান বলে জানান তিনি।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: