ঢাকঢোল আর বাদ্যযন্ত্রের তালে ছুটছে নৌকা। মাঝিদের কণ্ঠে ভেসে আসছে ভাটিয়ালি গান—‘হেইয়ারে হেইয়াহো, মারো টান’। বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর হাজারো দর্শকের করতালিতে মুখর হয়ে উঠেছে চেচিয়া নদীর দুই পাড়।
ভাদ্রের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে নাটোরের গুরুদাসপুরের চেচিয়া নদীতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উপভোগ করেছেন গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার মানুষ। চলনবিল অধ্যুষিত দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী খাঁকড়াদহ, শরীফপুর, কচুগাড়ী ও ভিটা কাজিপুর এলাকায় এ আয়োজন ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।
নৌকা বাইচ উপলক্ষে বিভিন্ন বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের আগমন ঘটে। নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো দর্শক। কেউ নৌকায়, কেউ নদীর তীরে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন মাঝিদের টানটান প্রতিযোগিতা।
বুধবার বিকেল ৩টায় খাঁকড়াদহ পূর্বপাড়া যুবসমাজের উদ্যোগে নৌকা বাইচের ফাইনাল পর্ব শুরু হয়। প্রতিযোগিতায় সাতটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মোট ১৪টি নৌকা অংশ নেয়। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে কচুগাড়ী একতা এক্সপ্রেস। দ্বিতীয় হয় কচুগাড়ী রিয়াদ এক্সপ্রেস এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে সোনার মদিনা এক্সপ্রেস।
প্রতিযোগিতা শেষে পানশী নৌকার বিশেষ প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজনের উদ্যোক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রবিউল ইসলাম।
প্রথম স্থান অর্জনকারী নৌকার জন্য ছিল বড় একটি ফ্রিজ, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে দেওয়া হয় ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন এবং তৃতীয় বিজয়ী পায় ২৪ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য নৌকার মালিকদেরও সৌজন্য পুরস্কার দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি করতেই এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে।