সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের সেবায় ব্যবহৃত আইপিএসের চারটি ব্যাটারি হাসপাতালের পরিবর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বাসায় রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম হাসপাতালের বাইরে রাখার ঘটনায় সরকারি সম্পদের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের আইপিএস ব্যবস্থার চারটি ব্যাটারি বর্তমানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায়ের বাসায় রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় হাসপাতালের জরুরি কার্যক্রম সচল রাখতে আইপিএসের মতো বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ব্যাটারিগুলো কেন হাসপাতালের বাইরে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
তাদের মতে, হাসপাতালের নামে বরাদ্দ করা সরকারি সরঞ্জাম হাসপাতালের বাইরে নেওয়া হলে এর যথাযথ অনুমোদন, স্টক রেজিস্টার, ইস্যু রেজিস্টার এবং ব্যবহারের কারণ নথিভুক্ত থাকার কথা। তাই ব্যাটারিগুলো কোথায়, কী উদ্দেশ্যে এবং কার অনুমোদনে রাখা হয়েছে—এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আরও দাবি, দিরাইসহ ভাটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ চলে গেলে আইপিএস ব্যবস্থা জরুরি সেবা ও চিকিৎসা কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে হাসপাতালের আইপিএসের ব্যাটারি দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে রোগীসেবায় এর কোনো প্রভাব পড়ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে হাসপাতালের স্টক রেজিস্টার, আইপিএস ও ব্যাটারি ক্রয়সংক্রান্ত নথি, ইস্যু রেজিস্টার, রক্ষণাবেক্ষণের কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ব্যাটারিগুলো বর্তমানে কোথায় এবং কী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা সরেজমিনে যাচাইয়েরও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সিভিল সার্জন মহোদয়ের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি সম্পদ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সরঞ্জাম যথাস্থানে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।