দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ পাল্টাপুর ইউনিয়নের ২৪ নম্বর দক্ষিণ পাল্টাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়া এবং কাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যেই প্রতিদিন পাঠদান চলছে। এতে ১২৬ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
সম্প্রতি বিদ্যালয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। ছাদ ও দেয়ালের একাধিক জায়গা থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভবনের একটি ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ভবনের নাজুক অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবসময় আতঙ্ক কাজ করে। শিক্ষকরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কোনো অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবীব বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
সহকারী শিক্ষক মো. আসলাম আলী ও সহকারী শিক্ষিকা মোছা. দুলালি বলেন, বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময়ও ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাজ করে।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিশু বিদ্যালয়টিতে আসে। ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজিদা হক বলেন, বিদ্যালয় ভবনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরিদর্শন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।