গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নয়ন মিয়া (২৪) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে জিম্মি করে অর্থ আদায় ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বুধবার গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, নয়ন মিয়া বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের পোড়াদহ (স্বর্ণগ্রাম) এলাকার দবির হোসেনের ছেলে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন—গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের গজিয়াপাড়া এলাকার মৃত রজ্জব আলীর ছেলে মাহাবুর রহমান (৫২), আলীপুর এলাকার একরাম রবিদাসের ছেলে দিলীপ চন্দ্র দাস (৪০) এবং জরিপপুর (জঙ্গলমারা) এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে লুটু মিয়া (৫৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের জঙ্গলমারা থেকে জরিপপুর যাওয়ার পথে নয়ন মিয়াকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাকে ফুলপুকুরিয়া বাজারে মাহাবুরের দোকানের ভেতরে বেঁধে রাখা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে লুটু মিয়া জিম্মি নয়নের শ্বশুর জুয়েলকে ফোন করে নিজেকে ডিবি জয়পুরহাটের সদস্য পরিচয় দেন। এ সময় নয়নকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে জানিয়ে তাকে ছাড়াতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ঘণ্টাখানেক পর জুয়েল ৩০ হাজার টাকা জোগাড় করে স্থানীয় তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে পানিতলার উদ্দেশে রওনা হন। পথে ডিবি পরিচয়দানকারী ব্যক্তির নম্বরে ফোন করলে তাদের ফুলপুকুরিয়া বাজারে যেতে বলা হয়।
পরে রাত ৯টার দিকে তারা ফুলপুকুরিয়া বাজারে গিয়ে মাদ্রাসা-সংলগ্ন স্থানে নয়নকে দেখতে পান। এ সময় মাহাবুরের হাতে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে নয়নকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা কম হওয়ায় মাহাবুর, দিলীপ, লুটুসহ অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন। পরে নয়নকে ফেরত না দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় পরে নয়ন মিয়াকে উদ্ধার করা হয়।
জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার পাওয়ার পর নয়ন মিয়া বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে দুইজন লোক আমার পথরোধ করে দাঁড়ায়। আমাকে চড়-থাপ্পড় মেরে অন্যত্র নিয়ে যায়। আমার কাছে মোটরসাইকেল ও ফোন ছিল, সেগুলো তারা নিয়ে যায়। সেখানে আরও ৩ থেকে ৪ জন লোক এসে আমাকে মারধর করে। এরপর ফুলপুকুরিয়া-জরিপপুর সড়কের মাঝামাঝি একটি কলাবাগানে নিয়ে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বাড়িতে ফোন করে টাকা আনতে বলে। তখন আমার মাকে ফোন দিলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষয়টি জানতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে ইয়াবা পাওয়ার কথা স্বীকার করতে বাধ্য করে। আমার সামনে মাহাবুর, দিলীপ ও লুটু মিলে র্যাব-ডিবি পুলিশ সেজে ফোনে কথা বলে। পরে তারা আমাকে মাহাবুরের দোকানে নিয়ে যায়। রাত ৯টার দিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে। আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’