সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাতায় ১১ শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে আসছে না কেউ। ফলে বন্ধ রয়েছে শ্রেণিপাঠ ও পরীক্ষা। তবে নিয়মিত বিদ্যালয়ে এসে দাপ্তরিক কাজ করছেন তিন শিক্ষক। এমনই অবস্থা উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বওলাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে সরকারি করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম ছিল। একপর্যায়ে শিক্ষকদের আন্তরিকতার ঘাটতি ও যথাযথ তদারকির অভাবে বিদ্যালয়টির প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ কমে যায়। পরে তারা সন্তানদের পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় ভর্তি করেন।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমার এবং সহকারী শিক্ষক আল মামুন ও মুনি আক্তারকে উপস্থিত পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের খাতায় প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ১১ শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। তবে প্রায় দুই বছর ধরে তাদের কেউই বিদ্যালয়ে আসে না। শিক্ষার্থী না থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে আগাছা জন্মেছে এবং ভবনের বারান্দার গ্রিলে জং ধরেছে।
প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমার বলেন, ২০২৪ সালের জুনে তাঁরা নতুন নিয়োগ পেয়ে বিদ্যালয়ে যোগ দেন। এরপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর অনুরোধ করলেও কেউ সাড়া দেননি।
স্থানীয়রা জানান, শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে এসে দাপ্তরিক কাজ করেন এবং বেতন পান। শিক্ষার্থী সংগ্রহে শিক্ষকদের ব্যর্থতার কারণে ইতিমধ্যে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত জুলাইয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীশূন্য অবস্থার বিষয়টি দেখতে পান। শিক্ষার্থী সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী আনার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। শিক্ষকদের আন্তরিকতার ঘাটতির পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবও রয়েছে। বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে শিক্ষার্থী ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।