সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে—সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথি গোষ্ঠী। তাদের দাবি, মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগটি পুরোনো ও ভিত্তিহীন।
হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি জোটের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, মক্কা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ নতুন কিছু নয় এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।
এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি হুথি ড্রোন মক্কার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কার দক্ষিণে সেটি শনাক্ত করে ধ্বংস করে। জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি বলেন, পবিত্র দুই মসজিদ ও সেখানে থাকা মুসল্লিদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে সৌদি জোটের এই বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি দ্বিমত পোষণ করেছে হুথিরা। হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগকে ‘পুরোনো মিথ্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। হুথিদের পক্ষ থেকে এর আগে পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে কোনো হামলার উদ্দেশ্য থাকার কথাও অস্বীকার করা হয়েছে।
সৌদি জোটের দাবি, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের এমন তৎপরতার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালেও হুথিরা মক্কার দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল। সর্বশেষ ঘটনাটিকে জোট সেই ঘটনার পর দ্বিতীয়বারের মতো মক্কাকে লক্ষ্য করার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের হামলা ও পাল্টা সামরিক তৎপরতার কারণে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার মক্কা, জেদ্দা ও তাইফসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
মক্কাকে ঘিরে সৌদি জোট ও হুথিদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। তবে ড্রোনটি সত্যিই মক্কাকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স