ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক তৎপরতা ঠেকাতে সৌদি আরবকে সহায়তার অনুরোধ বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য। রিয়াদের অনুরোধের পর সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে সামরিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে দক্ষিণ দিকে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো এবং তাদের হামলা মোকাবিলায় ব্রিটিশ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সৌদি সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর বিষয়েও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সম্মতি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বাব আল-মান্দেব ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ : সপ্তাহান্তে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি ইয়েমেনের উপকূলীয় কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে হুথিরা। এর পরপরই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পরিবহন করা হয়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি পুরোপুরি মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুথিদের অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মিডল ইস্ট আই। এর প্রভাব যুক্তরাজ্যের জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে এবং সেখানে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে ব্রিটিশ সরকারকে জানানো হয়েছে।
ওয়াশিংটনের কাছেও সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ : সৌদি আরবকে ঠিক কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও সহায়তা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে গত শনিবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। আলোচনার পর মিলিব্যান্ড সৌদি আরব এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে যুক্তরাজ্যের দৃঢ় সমর্থনের কথা জানান।
তাইজে বিমান হামলায় হতাহতের দাবি : এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার দাবি করেছে হুথিদের ঘনিষ্ঠ আল-মাসিরাহ টেলিভিশন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
পাকিস্তান-তুরস্কের অবস্থান কী? : সৌদি আরবের সঙ্গে সম্প্রতি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। তবে হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান পরিস্থিতিতে এখনো এই দুই দেশ সৌদিকে সামরিক সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেনি।
তুরস্কের এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা চুক্তি এখনো কার্যকর হয়নি। ফলে চুক্তির আওতায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়নি।
সব মিলিয়ে বাব আল-মান্দেব ঘিরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন মাত্রা পাচ্ছে। সৌদির অনুরোধে ব্রিটেন শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক সহায়তায় যুক্ত হলে ইয়েমেন সংঘাতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততাও আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ, রয়টার্স ও মিডল ইস্ট আই।