সেলুনে বসে চুল কাটাচ্ছিলেন ফরহাদ হোসেন (৩০)। আচমকা সেখানে ঢোকে কয়েকজন যুবক। প্রথমে পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়। পরে চাপাতি হাতে সেলুনে ঢুকে ফরহাদকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান তিনি।
মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকার রাজ সেলুনে এ ঘটনা ঘটে। আহত ফরহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল চারটার দিকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফরহাদ কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকার মেম্বার গলিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার নুরাবাদ গ্রামে।
চাঁদা না দেওয়ায় বিরোধ?
ফরহাদের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেনের দাবি, মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন ফরহাদ। সেখানে আরমান, সোহেল, কাল্লু, সাব্বিরসহ সাত-আটজন কিশোর গ্যাং সদস্য তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছিল।
তাদের দাবি ছিল ব্যবসা চালিয়ে যেতে এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন আলাদা চাঁদা দিতে হবে। ফরহাদ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। স্বজনদের ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই তাঁকে হামলার শিকার হতে হয়েছে।
সিসিটিভিতে হামলার দৃশ্য
সেলুনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ৩টা ৭ মিনিটের দিকে তিনজন যুবক সেলুনে প্রবেশ করে। তাদের দুজনের মাথায় ক্যাপ ছিল। ভেতরে ঢোকার আগেই একজন প্যান্টের পকেট থেকে পিস্তল বের করে সেলুনের দিকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।
গুলির শব্দে সেলুনে থাকা অন্যরা আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে যান। এরপর অপর দুজন কোমর থেকে ধারালো চাপাতি বের করে ভেতরে ঢোকে।
এ সময় লুঙ্গি পরা ও খালি গায়ে ফরহাদ সেলুন থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু একজন পেছন থেকে তাঁর লুঙ্গি ধরে ফেললে তিনি আর পালাতে পারেননি। পরে আরেকজন তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
‘পাটালি গ্রুপের’ সদস্য ছিলেন ফরহাদ: পুলিশ
মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের ভাষ্য, ফরহাদ নিজেও কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপের’ সদস্য ছিলেন। মোহাম্মদপুরের বোটঘাট ও ময়ূরভিলা এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তাঁর জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলায় জড়িত দুই পক্ষই মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকার। পূর্ববিরোধের জেরে তারা আরশিনগরে এসে হামলা চালিয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ফরহাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।