পঞ্চগড়ে কথিত প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এক স্কুলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি ও মানসিক চাপে ওই ছাত্রী কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের অভিযোগ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণ ও সহযোগিতার অভিযোগে কথিত প্রেমিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। সে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করা সুয়েল ওরফে সোহেল (২৫) ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তাকে ফুসলিয়ে ইজিবাইকে করে হাফিজাবাদ ইউনিয়নের রাজমহল-পূর্ববাগান এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সহযোগীদের সহায়তায় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ওই ছাত্রীকে হুমকি দেওয়া হয়। রাত প্রায় দুইটার দিকে তাকে একটি ইজিবাইকে তুলে দেওয়া হয়। পথে চালক ও দুই যাত্রী তার সঙ্গে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী ইজিবাইক থেকে লাফ দিয়ে নেমে স্থানীয় এক ট্রাক্টরচালকের সহায়তা নেন। পরে রাত আড়াইটার দিকে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানান তিনি।
পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। পরদিন সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ওই ছাত্রীকে সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর শনিবার বেলা ১১টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, কীটনাশক পান করার পর ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি জানা যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় গত রোববার নিহত ছাত্রীর বড় ভাই বাদী হয়ে সোহেলসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার পর অভিযান চালিয়ে সোহেল ও ইজিবাইকচালক রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টু (২৩)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
নিহত ছাত্রীর বড় ভাই বলেন, তাঁর বোনকে ‘তুমি না গেলে আমি বাঁচব না’—এমন কথা বলে সোহেল ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।