যুক্তরাজ্যে স্ত্রীকে অচেতন করার পর দীর্ঘ দুই দশক ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক ব্যক্তি আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা ৬০টি অপরাধ স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীর আইনগত পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে অভিযুক্ত স্বামীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
মিনশাল স্ট্রিট ক্রাউন কোর্টে ওই ব্যক্তি ধর্ষণসহ একাধিক গুরুতর যৌন অপরাধের অভিযোগে নিজেকে দোষী স্বীকার করেন। আদালতে অভিযোগগুলো পড়ে শোনানোর সময় তিনি একাধিকবার ‘দোষী’ বলে স্বীকারোক্তি দেন।
ষাটের কোঠায় থাকা অভিযুক্ত একপর্যায়ে অভিযোগগুলোর জবাব দিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ এবং ভুক্তভোগীকে অচেতন বা অসুস্থ করার জন্য কোনো পদার্থ প্রয়োগের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় একপর্যায়ে বিচারক তাকে কাঠগড়ায় বসে পড়ার পরামর্শ দেন।
এই মামলায় একই নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন অপরাধের অভিযোগে আরও ১২ জন পুরুষ বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্ট এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত স্বামীর স্বীকার করা অপরাধগুলোর জন্য মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তার সাজা ঘোষণা করা হবে।
এ ছাড়া আরও একজন, অর্থাৎ ১৩তম অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন অপরাধের অভিযোগ আগেই স্বীকার করেছেন।
আদালতে স্বীকার করা অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যেই ২০০৪ সাল থেকে স্বামীর অপরাধের সময়কাল শুরু হয় এবং তা বহু বছর ধরে চলতে থাকে।
অন্যদিকে, মামলার বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সময়কাল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।
মামলাটির বিচার আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র: বিবিসি