
গাজীপুরের কোনাবাড়ী-আমবাগ এলাকায় তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে প্রায় দুই হাজার মিনি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক মিনি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় কারখানা মালিকেরা জানান, গত দুই বছরে নানা সংকটে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। কেউ কেউ কারখানা বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে। তাঁদের দাবি, এর আগে কখনো এমন মাত্রার লোডশেডিং দেখেননি তারা।
বর্তমানে অনেক মালিক জেনারেটর চালিয়ে কারখানা সচল রাখার চেষ্টা করছেন। তবে ডিজেলের বাড়তি খরচের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নগরীর কোনাবাড়ী-আমবাগ এলাকার ঢালাই কারখানা সংলগ্ন কিরণের মার্কেটে সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে আমবাগ এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য মিনি গার্মেন্টস। পুরো এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা রয়েছে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু বড় শিল্পকারখানা ও হাজার হাজার ঝুট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এসব কারখানায় মূলত নিম্নআয়ের মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মালিকদের অভিযোগ, সম্প্রতি লোডশেডিং মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে মাত্র চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
কারখানা মালিকেরা জানান, বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। ফলে জেনারেটর চালানোর অতিরিক্ত ব্যয় তাঁদেরই বহন করতে হচ্ছে। এভাবে লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে বাধ্য হয়ে কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে।
তাঁদের আরও অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় মাত্র চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেলেও আগের তুলনায় বিদ্যুৎ বিল দ্বিগুণ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে কারখানা বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
মালিকেরা জরুরি ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।