৫১৪ টাকার ইলিশ ১ হাজার ৮০০! ‘পদ্মার’ নামে বিক্রি বিদেশি মাছ

খুলনা সংবাদদাতা

সারাদেশ

বাজারে দেশি ইলিশের চড়া দামের সুযোগ নিয়ে ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশ দেশি মাছের পরিচয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। আমদানিকারকদের

2026-09-13T20:45:52+00:00
2026-09-13T20:45:52+00:00
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
 
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
৫১৪ টাকার ইলিশ ১ হাজার ৮০০! ‘পদ্মার’ নামে বিক্রি বিদেশি মাছ
খুলনা সংবাদদাতা
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বাজারে দেশি ইলিশের চড়া দামের সুযোগ নিয়ে ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশ দেশি মাছের পরিচয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। আমদানিকারকদের হিসাবে, শুল্ক-পরিবহনসহ সব খরচ মিলিয়ে ভারতীয় ইলিশের প্রতি কেজিতে ব্যয় পড়ে প্রায় ৫১৪ টাকা। অথচ সেই মাছই দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো বাজারে এসব বিদেশি ইলিশকে চাঁদপুর, বরিশাল কিংবা চট্টগ্রামের ইলিশ বলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে একদিকে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা, অন্যদিকে কম দামের বিদেশি ইলিশের কারণে বাজার হারাচ্ছেন দেশি ইলিশের ব্যবসায়ীরা।

কাস্টমস ও ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে।

এর মধ্যে জুলাইয়ে এসেছে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি। দুই মাসে আমদানি করা এসব ইলিশের ঘোষিত মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

ফেমাস ট্রেডার্স, সততা ফিস ফিড, শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল ও রাব্বি এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন আমদানিকারক এসব ইলিশ দেশে এনেছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। মাছ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে।

আমদানিকারকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি ইলিশের মূল দাম প্রায় ২৫২ টাকা। এর সঙ্গে প্রায় ১৬২ টাকা সরকারি শুল্ক এবং ট্রাক ভাড়া, এলসি খরচসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ হলে প্রতি কেজিতে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৫১৪ টাকা।

কিন্তু বাজারে একই মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। অথচ একই আকারের দেশি ইলিশের দাম প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা কেজি।

দামের বড় পার্থক্যের কারণে ক্রেতাদের অনেকেই কম দামের বিদেশি ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে বিদেশি ইলিশকে কখনও ‘চাঁদপুরের’, কখনও ‘বরিশালের’, আবার কখনও ‘চট্টগ্রামের’ ইলিশ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বেনাপোলের এক ক্রেতা বলেন, দেশি ইলিশ মনে করেই মাছ কিনেছিলেন। পরে রান্না করে স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য বুঝতে পারেন। দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বিদেশি ও দেশি ইলিশ আলাদা করা কঠিন বলেও জানান তিনি।

আরেক ক্রেতার অভিযোগ, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী বিদেশি ইলিশকে দেশি পরিচয়ে চড়া দামে বিক্রি করছেন। এতে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একই আকারের ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশের দাম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।

দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীদের দাবি, কম দামে বড় আকারের বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি মাছের বিক্রি কমে গেছে। একই সঙ্গে বিদেশি মাছকে দেশি পরিচয়ে বিক্রি করা হলে প্রকৃত দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীদের জন্যও প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই স্থলবন্দর দিয়ে ‘সাদা মাছ’ ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ১২ কার্টনে প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় আমদানির ঘোষণাপত্রে পণ্যের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের মিল ছিল কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

আমদানিকারকদের কয়েকজন অবশ্য দাবি করেছেন, তারা এলসির মাধ্যমে বৈধভাবে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করেছেন এবং সরকারি শুল্ক পরিশোধ করেছেন। আমদানি করা মাছ আড়তদারদের কাছে বিক্রি করার পর বাজারে সেটি কী পরিচয়ে বিক্রি হচ্ছে, তা তাদের বিষয় নয় বলেও জানান তারা।

ক্রেতা ও দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানি করা ইলিশের উৎস ও পরিচয় নিশ্চিত করতে বাজার পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বিদেশি ইলিশকে দেশি পরিচয়ে বিক্রি করে কেউ যাতে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত বাজার অভিযান ও আমদানির কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা বলছেন, বেনাপোল দিয়ে আসা ইলিশ পরীক্ষা করেই কোয়ারেন্টাইন সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। তবে বাজারে পৌঁছানোর পর কোনো ব্যবসায়ী মাছের পরিচয় পরিবর্তন করে বিক্রি করছেন কি না, সেটিও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: