হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে জুবা আক্তার নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নবীগঞ্জ উপজেলার খলিল উদ্দিন ও গোলাম হোসেন (৬০)।
মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর পূর্ব ইউনিয়নের হরিনগর এলাকায় একটি জমি থেকে জুবা আক্তারের হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), হবিগঞ্জের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার রাতে কিশোরীটি তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে ওই এলাকায় গিয়েছিল। সেখানে খলিল উদ্দিনের সঙ্গে তার দেখা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, খলিল তাকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় গোলাম হোসেন ঘটনাটি দেখে ফেলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। পরে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে সে রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার তিন দিনের মাথায় মামলার প্রধান আসামি খলিল উদ্দিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। পরে পুলিশ গোলাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার নথি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনায় কিশোরীর মৃত্যু হলে ঘটনা আড়াল করতে তার গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত খলিল উদ্দিন ও গোলাম হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন সেলিম বলেন, কিশোরী হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।