শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে বিএনপি নেতাকর্মীদের রক্তের বন্যা বইয়েছে তার লালিত পুলিশ বাহিনী। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় ফেনীর হারুন উর রশিদের মতো গ্রামে গ্রামে শত শত বিএনপি নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। কারও লাশ নদীর ধারে, কারও লাশ পুকুরপাড়ে ফেলে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ হারুন উর রশিদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নতুন ঘর উপহার ও চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাতে ঘরে ঘুমাতে পারেননি। পুলিশের সদস্যরা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ধরে ধরে হত্যা করে রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। ফেনীর হারুন ছিলেন দলের একজন সাধারণ কর্মী। তাকে পুলিশ প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে। হারুন কোনো ব্যাংকের টাকা লুট করেননি। এভাবে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে তার তিন সন্তানকে এতিম করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেও শহীদ হারুনের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। এখনও নিচ্ছেন, আগামীতেও শহীদ পরিবারের পাশে থাকবেন।
রিজভী আরও বলেন, ‘আমরা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আজ হারুনের পরিবারকে ঘর উপহার দিতে এসেছি।’ উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আরও যারা শহীদ হয়েছেন, আপনারা সবাই তাদের পরিবারের পাশে থাকবেন। যার মা গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন, সেই তারেক রহমান গণতন্ত্রের পতাকা বহন করছেন। তারেক রহমান বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন।
অনুষ্ঠানে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন বিপি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাছির উদ্দীন খন্দকার, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য বেলাল আহমেদ, বেলাল হোসেন মজুমদার ও মশিউর রহমান বিপ্লব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছাইদুর রহমান জুয়েল এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালা উদ্দিন মামুন উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।
এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। চাবি হস্তান্তর শেষে শহীদ হারুন উর রশিদের কবর জিয়ারত ও দোয়ায় অংশ নেন রুহুল কবির রিজভী।