জমিতে সোনার ধান, বাজারে পানির দাম—হতাশ বদলগাছীর কৃষক

বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতা

সারাদেশ

নওগাঁর বদলগাছীতে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন

2026-09-12T17:06:34+00:00
2026-09-12T17:06:34+00:00
  রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
জমিতে সোনার ধান, বাজারে পানির দাম—হতাশ বদলগাছীর কৃষক
বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতা
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
নওগাঁর বদলগাছীতে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। ভালো ফলন পেয়েও লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ তারা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন আউশ ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে। জমিতে ফলন ভালো হলেও বাজারদর নিয়ে সন্তুষ্ট নন তারা।

উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের পার আধাইপুর সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক গোবিন্দ মণ্ডল, পরিমল চন্দ্র ও কালিপদ জানান, এবার আউশ ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ তুলে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সদর ইউনিয়নের ভাতশাইল গ্রামের কৃষক জুলফিকার চৌধুরী, মাসুদ রানা ও গোলাম কিবরিয়াসহ অন্য কৃষকরা জানান, এ এলাকার অনেক কৃষক ১৫ থেকে ২০ বিঘা জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় চাষাবাদে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। ফলন হচ্ছে গড়ে ১৫ থেকে ১৭ মণ।

কৃষকদের দাবি, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই ও শস্য সংগ্রহের খরচ যোগ হওয়ায় প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ভালো ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না তারা।

আবাদপুর গ্রামের কৃষক রঘুনাথ, বাসুদেব মণ্ডল ও রনজিতসহ কয়েকজন বলেন, আউশ ধানের ফলন ভালো হলেও বাজারদর না বাড়লে কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে। এভাবে বছরের পর বছর লোকসান হলে অনেক কৃষক আউশ ধানের চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বদলগাছীতে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ১৯০ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার ২ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আউশের চাষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবাব ফারহান বলেন, সরকার কৃষকদের বিনামূল্যে আউশ ধানের বীজ, সারসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়েছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তদারকি করেছেন। এসব কারণে এবার আউশ ধানের ফলন ভালো হয়েছে।

তবে বাম্পার ফলনের পরও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে বাজারদর বাড়ানো ও উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: