বসতঘরের সিঁড়ির নিচে ৫ বিষধর কোবরা, চা বাগানে ১৬ ফুটের অজগর!

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

সারাদেশ

পাহাড়, টিলা ও চা-বাগানঘেরা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় লোকালয়ে সাপের উপস্থিতি বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে বসতবাড়ি ও চা-বাগান থেকে

2026-09-12T16:58:56+00:00
2026-09-12T16:58:56+00:00
  রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
বসতঘরের সিঁড়ির নিচে ৫ বিষধর কোবরা, চা বাগানে ১৬ ফুটের অজগর!
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
পাহাড়, টিলা ও চা-বাগানঘেরা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় লোকালয়ে সাপের উপস্থিতি বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে বসতবাড়ি ও চা-বাগান থেকে একাধিক বিষধর সাপ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কমলগঞ্জে জাপানপ্রবাসী মুজাহিদ আলীর বসতঘরের সিঁড়ির নিচ থেকে পাঁচটি মনোক্লেড কোবরা সাপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। একসঙ্গে একাধিক সাপ দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়া হলে সংগঠনটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপগুলো শনাক্ত করেন এবং নিরাপদে উদ্ধার করেন।

এদিকে শ্রীমঙ্গলের ভুরভুরিয়া চা-বাগানে চা পাতা সংগ্রহের সময় ঝোপের মধ্যে বড় আকৃতির একটি বিষধর সাপ দেখতে পান শ্রমিকরা। সাপটি দেখে আতঙ্কে তারা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

পরে বাগান কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ঘটনাস্থলে যান। তিনি সাপটিকে প্রাণঘাতী বিষধর খৈয়া গোখরা হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে সতর্কতার সঙ্গে সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

এছাড়া সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের কুঞ্জবন এলাকা থেকে একটি বিরল প্রজাতির সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে জাগছড়া চা-বাগানের ১৭ নম্বর সেকশনে কাজ করার সময় শ্রমিকরা ঝোপের মধ্যে একটি অজগর সাপ দেখতে পান। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, রাজদীপ দেব দীপ ও বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন।

উদ্ধার করা অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৩০ কেজি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, বসতবাড়িতে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা না করে দ্রুত বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সহায়তা নেওয়া উচিত। এতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীও রক্ষা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে সাপের গর্তে পানি ঢুকে গেলে কিংবা অতিরিক্ত গরমে ঠান্ডা ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সাপ প্রায়ই লোকালয় বা মানুষের ঘরে ঢুকে পড়ে। এতে আতঙ্ক তৈরি হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সম্পাদক নূরুল মোহাইমীন মিল্টন বলেন, পাহাড় কাটা, বন ও জঙ্গল ধ্বংসসহ অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে সাপের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। বর্ষায় সাপের গর্তে পানি জমে যাওয়া এবং প্রজনন মৌসুমে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তারা লোকালয়ে চলে আসছে।

তিনি আরও বলেন, বসতবাড়ির আশপাশে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং ইঁদুর ও ব্যাঙের উপস্থিতিও সাপকে লোকালয়ে টেনে আনছে। তাই সাপের উপদ্রব কমাতে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: