শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চর্চায় শিক্ষার্থীদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি বলেছেন, শুধু বইয়ের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হলে বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও যুক্ত থাকতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে চাঁদপুর শহরের মুনিরা ভবনে সদর ও হাইমচর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৭১ শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তবে শিক্ষা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চর্চার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে হবে।
তিনি জানান, এ বছর চাঁদপুর জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ২২৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে সদর ও হাইমচর উপজেলার ৫৭১ জন শিক্ষার্থীকে এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।
চাঁদপুরের শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব। জেলার উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে। চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ ও হাইমচর কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ তুলে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ থেকেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে বের হচ্ছেন। ভবিষ্যতে চাঁদপুর থেকেই বিসিএস ক্যাডার, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশায় দক্ষ জনবল তৈরি হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হবে। একটি সুন্দর চাঁদপুর গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক নির্মূলে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, মাদকের বিষয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে ছবি বা ভিডিও সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার কথা জানিয়ে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রথম ধাপে ৫০ জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হতে দেওয়া যাবে না।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত দুটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ। নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রাইভেট পড়ার অজুহাতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান থেকে বিরত থাকা যাবে না। মোবাইল ফোন প্রয়োজনীয় ও শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে শিক্ষার্থীরা লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে পড়তে পারে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন শিক্ষককে স্বপ্নদ্রষ্টা হতে হবে। সময়ের সঙ্গে শিক্ষকদেরও দক্ষ ও স্মার্ট হয়ে উঠতে হবে। শিক্ষকেরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ফলাফল—দুটিই বাড়বে।
চাঁদপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম।
আলোচনা সভা শেষে সদর ও হাইমচর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৭১ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।