নরসিংদীর শিবপুরে স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে এসে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমেছিলেন চারজন। মুহূর্তেই প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান তারা। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর নদী থেকে নারী ও শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একজন। স্বজনদের আনন্দঘন বেড়ানো পরিণত হয়েছে শোক আর আহাজারিতে।
শনিবার দুপুর পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন অংশে অভিযান চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে শান্ত (২৪) নামে আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভঙ্গাল গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. ওবায়দুল্লাহ (৩৮), নরসিংদীর শিবপুরের মজনু মিয়ার ছেলে সৌরভ (২০) এবং কালীগঞ্জের ফুলবাড়িয়া গ্রামের শান্তা (১৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে শিবপুরের দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যান তারা। পরে ওবায়দুল্লাহ, শান্তা ও শান্ত শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামেন। সাঁতার না জানায় নদীর প্রবল স্রোতে তারা তলিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে সৌরভও নদীতে ঝাঁপ দিলে তিনিও স্রোতের টানে ভেসে যান।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে রাতের অন্ধকার ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অভিযান স্থগিত করা হয়।
শনিবার সকালে ভৈরব থেকে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল এনে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। নদীর প্রায় ৬ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকায় চালানো হয় তল্লাশি।
দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার দীঘুয়া এলাকায় শান্তার ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে ওবায়দুল্লাহ ও সৌরভের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপর নিখোঁজ শান্তর সন্ধানে ডুবুরি দলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর স্বজনদের আবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।