সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকায় চুরির চেষ্টার অভিযোগে এক তরুণীর কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় টেনে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শাহজালাল উপশহর এলাকার দোকানমালিক জাকির হোসেন (৪৩), তাঁর ভাই মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার বোরহান উদ্দিন (৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহজালাল উপশহরের বি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে চুরির চেষ্টা করার অভিযোগে ওই ২০ বছর বয়সী তরুণীকে স্থানীয় কয়েকজন আটক করেন। পরে রাত ১১টার দিকে তাঁকে কোমরে শিকল ও তালা লাগিয়ে সড়কে হাঁটিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও মঙ্গলবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরা ওই তরুণীর কোমরে শিকল বাঁধা। এক ব্যক্তি শিকল ধরে তাঁকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তরুণীকে কাঁদতে দেখা যায় এবং তিনি হাত ও কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করেন।
ভিডিওতে আশপাশে থাকা কয়েকজনকে ওই তরুণীকে কাঁদতে নিষেধ করতেও শোনা যায়।
এদিকে ঘটনার আগে ওই দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগের একটি সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া গেছে। ফুটেজে বোরকা পরা তিন নারীকে দোকানে ঢুকতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে একজন দোকানের ভেতরে গিয়ে ক্যাশবাক্স টানার চেষ্টা করেন। তবে ক্যাশবাক্স থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না, ফুটেজে তা স্পষ্ট নয়।
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলায় তখন পুলিশ চলে আসে। পরে রাতে ব্যবসায়ীরা আবার পুলিশকে খবর দিলে তরুণীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে চুরির অভিযোগে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।
ওসি বলেন, তরুণীকে আটকে রেখে নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং সেই ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আটক তিনজনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আদালতে পাঠানোর পর মুচলেকা দিয়ে ওই তরুণী ছাড়া পেয়েছেন। তাঁর বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়।
স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী বলেন, চুরির চেষ্টা করে থাকলেও কাউকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাস্তায় হাঁটানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং একজন নারীকে প্রকাশ্যে অপদস্থ করার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।