হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সার্ভারে কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রায় আধাঘণ্টা বন্ধ ছিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর হঠাৎ সার্ভার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বহির্গমন ও আগমন—দুই বিভাগের কাউন্টারেই যাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
সার্ভার বিকল থাকায় নির্ধারিত সময়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ফ্লাইটে উঠতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে পড়েন বিদেশগামী যাত্রীরা। একই সঙ্গে বিদেশফেরত যাত্রীদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন কাউন্টারে ভিড় বাড়তে থাকে এবং যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, নিয়মিত কার্যক্রম চলার সময় দুপুরের পর ইমিগ্রেশনের প্রধান সার্ভারে হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পাসপোর্ট যাচাই ও ইমিগ্রেশন সম্পন্নের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ইমিগ্রেশন পুলিশ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কিছু কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করে। তবে স্বাভাবিক গতিতে কাজ করা সম্ভব না হওয়ায় কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের জট আরও বাড়ে।
এদিকে বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সার্ভার বিকলের কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ার কথা তুলে ধরেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারিগরি ত্রুটির কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছিল। খবর পেয়ে প্রকৌশলী দল দ্রুত কাজ শুরু করে। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে সার্ভার পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়।
সার্ভার চালু হওয়ার পর ইমিগ্রেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করে। অপেক্ষমাণ যাত্রীদের দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করেন।
তবে হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ ইমিগ্রেশন সার্ভার বিকল হয়ে যাওয়ায় বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে বিকল্প ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা।