রাজধানীর খিলক্ষেতে মুক্তা ইসলাম নামে এক নারীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর দুই দিন আগে স্বামী সোহেল শিকদার তাঁর নির্যাতনের একটি ভিডিও মুক্তার ভাই তানভীর রহমানকে পাঠিয়ে লিখেছিলেন, ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও’। এর দুই দিন পর বাসা থেকে মুক্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পরিবারের অভিযোগ, মুক্তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত নয়।
মুক্তার পরিবার জানায়, খিলক্ষেতের একটি বাসায় স্বামীর সঙ্গে থাকতেন তিনি। গত ১ সেপ্টেম্বর সোহেল তাঁর ভাইয়ের কাছে মুক্তাকে মারধরের একটি ভিডিও পাঠান। ভিডিওতে মুক্তার পায়ে শিকল দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে বেল্ট দিয়ে মারধর করতে দেখা যায়। এ সময় পাশের কক্ষে থাকা দুই সন্তানের কান্নার শব্দও শোনা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওটি সোহেলের জব্দ করা মুঠোফোনেও পাওয়া গেছে। ভিডিওতে মুক্তাকে স্বামীর কাছে নির্যাতন না করার অনুরোধ করতে শোনা যায়।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। কয়েক মাস আগে মুক্তার ভাইয়ের কাছে তিন লাখ টাকা চেয়েছিলেন সোহেল। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মুক্তাকে মারধর করা হতো বলেও অভিযোগ পরিবারের। এ ছাড়া যৌতুক ও স্বামীর সন্দেহকে কেন্দ্র করেও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
মুক্তার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভাই তানভীর রহমান বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সোহেল শিকদারকে। তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজীব ভৌমিক জানান, মৃত্যুর দুই দিন আগে মুক্তাকে মারধরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ওই মারধরের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশের কাছে সোহেল দাবি করেছেন, মুক্তা নিজেই ফাঁস নিয়েছেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের অভিযোগসহ সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।